স্বাস্থকেন্দ্রে ঝুলছিল তালা, মাঠেই সন্তান জন্ম দিলেন মা

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর- রংপুরের কাউনিয়ায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গেট বন্ধ থাকায় মাঠে সন্তান প্রসব করেছেন এক নারী। মঙ্গলবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হারাগাছ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সামনে সন্তান প্রসব করেন তিনি।

 

ওই প্রসূতি হারাগাছ ইউনিয়নের চরনাজিরদহ মফিজপাড়া গ্রামের শাহাদত হোসেনের স্ত্রী লিমা বেগম বলে জানা গেছে।

 

প্রসূতির স্বামী শাহাদত হোসেন বলেন, আল্লাহর রহমতে স্ত্রী ও সন্তান বেঁচে গেছে। আর কিছু সময় পার হলে দুজনেই মারা যেত।

 

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রসব ব্যথা উঠলে বাড়িতে স্থানীয় দাই দিয়ে চেষ্টা করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে হারাগাছ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে স্ত্রীকে নিয়ে আসি। কিন্তু মাতৃমঙ্গল কেন্দ্রে কোনো ডাক্তার ও নার্সকে পাইনি। কেন্দ্রের গেটে তালা ঝুলছে। পরে কেন্দ্রের ভবনের পাশে ঘাসের ওপর মেয়ে সন্তান জন্ম দেয় সে। রাত একটার দিকে অটোবাইকে করে স্ত্রী ও মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসি।

 

স্থানীয় মিনাবাজার এলাকার রানা মিয়া বলেন, হারাগাছ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মাঝে মাঝে আসেন। অল্প সময় থেকে আবার শহরে চলে যান। ফলে সেবা নিতে আসা অনেক গর্ভবতী নারী বিপদে পড়ে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের আশেপাশে ঝোপঝাড়ে সন্তান প্রসব করেন।

 

আকবর আলী নামে আরেক জন বলেন, মা ও শিশুদের মৃত্যুহার কমাতে এবং নিরাপদ ও স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের জন্য পাশের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য প্রতিদিনেই টেলিভিশন ও পত্রিকায় প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এ অবস্থা। হারাগাছ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে রাতে কোনো লোক থাকে না। অথচ থাকার জন্য আলাদা ভবন রয়েছে।

 

মা ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা জান্নাতুল ফেরদৌউস জানান, এখানে তিনি ও দুজন দাই দায়িত্বে আছেন। যদিও ২৪ ঘণ্টা গর্ভবতী নারীদের সেবা দেওয়ার কথা। কিন্তু তিনজনের পক্ষে ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়া সম্ভব না। সপ্তাহে শনিবার-বৃহস্পতিবার ছয়দিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত গর্ভবতী নারীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।

 

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম জানান, দুই মাস আগে এ উপজেলায় যোগদান করি। যোগদানের পরেই হারাগাছ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার ব্যাপারে অভিযোগ জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

 

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় উপ পরিচালক ডা. সাইদুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ ও স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে মা ও শিশু কল্যাণগুলো অসহায় দরিদ্র মানুষের আশ্রয়স্থল। কিন্তু জনবল সমস্যা রয়েছে। ফলে সেবা কিছুটা সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *