ডিজেলের দাম একসঙ্গে ১৫ টাকা বাড়ানো ঠিক হয়নি: ১৪ দল

amu 9

নজর২৪ ডেস্ক- ডিজেল ও কেরোসিনের দাম একসঙ্গে ১৫ টাকা বাড়ানো ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং জোটের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমুর বাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

বৈঠক শেষে আমির হোসেন আমু সাংবাদিকদের বলেন, ডিজেলের দাম একসঙ্গে ১৫ টাকা বৃদ্ধি করা ঠিক হয়নি। যারা এটা করেছেন, তাদের উচিত ছিল ত্রিপক্ষীয় একটা আলোচনা করে সবকিছু নির্ধারণ করা। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির আগে বাস মালিক ও জনগণের প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত ছিল বলে জানান তিনি।

 

এ সময় পাশ থেকে জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, রাজস্ব কমিয়ে দিলেই হতো। ভারত তো এটা করেছে।

 

আমু বলেন, আমরা মনে করি বাস ভাড়া বৃদ্ধির পদক্ষেপ অমানবিক। আমরা জানি অধিকাংশ বাসই গ্যাসে চালিত। কিন্তু গ্যাসের দাম বৃদ্ধি না হওয়ার পরও সব বাসের ভাড়া বৃদ্ধির যৌক্তিক কারণ ১৪ দল পায় না বলেও জানান তিনি।

 

তিনি বলেন, হয় গ্যাস চালিত বাসের সিলিন্ডার নিয়ে নিতে হবে, এই বাস ব্যবস্থাই বাদ দিতে হবে। সবাইকে তেলে আনতে হবে। না হলে, বাস ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে জনগণের যাতে স্বস্তি হয় সেই রকম বাস ভাড়া নির্ধারণের দাবি করছি।

 

দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে সরবরাহের ঘাটতি নেই, উৎপাদনে ঘাটতি নেই, তারপরও অহেতুকভাবে দফায় দফায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি জনগণের নাভিঃশ্বাস উঠে যাচ্ছে, এদিকেও দৃষ্টি দেওয়া উচিত। কী কারণে হঠাৎ করে এভাবে মূল্যবৃদ্ধি করা হয়? কেন জনগণ দুর্দশার শিকার হচ্ছে? কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি সুরাহা করা। মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে মূল্য নির্ধারণ করা।”

 

ইউপি নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক সহিংসতা নিয়ে আমু বলেন, “এতেও আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি। সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, যাতে এই সহিংসতা বন্ধ হয়। জনগণ যাতে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। এজন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অত্যন্ত সজাগ ও কঠোর হতে হবে।”

 

আমু বলেন, “একটি সম্প্রদায়কে সামনে রেখে এই ঘটনাটি যদিও ঘটিয়েছে, কিন্তু মূলত যারা ঘটিয়েছে তারা দেশের অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি নষ্ট করা ও দেশে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ঘটিয়েছে। আমরা মনে করি, এটার তদন্ত সাপেক্ষে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে।”

 

আমু জানান, দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আলোচনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ১৪ দল। এর সময়সূচি পরে জানানো হবে।

 

আমুর সভাপতিত্বে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *