নজর২৪ ডেস্ক- পাটুরিয়ায় যমুনা নদীতে ডুবে যাওয়া ফেরি আমানত শাহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ফেরিটি উদ্ধার করে পানি থেকে ভাসিয়ে তোলা হয়।
আজই বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনকে (বিআইডব্লিউটিসি) প্রাথমিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির উদ্ধারকারী দলের প্রধান ফজলুর রহমান।
তবে তারা ফেরিটি আরও দুইদিন পর্যবেক্ষণে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেবেন বলে জানান তিনি।
ফেরিটি ডুবে যাওয়ার ১৪ দিন পর বেসরকারি উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান চট্রগ্রামের জেনুইন এন্টার প্রাইজ ফেরিটি উদ্ধার কাজ শেষ করে পানি থেকে ভাসিয়ে তোলে। জেনুইন এন্টার প্রাইজের পাঁচটি উইন্স বার্জ দিয়ে ফেরির উদ্ধার কাজ করা হয়।
জানা গেছে, পানির নিচে ডুবে থাকা এ ফেরির উত্তোলন করতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২ কোটি টাকা।
উইন্স বার্জের সুপারভাইজার ইয়ার মোহাম্মদ জানান, গত শুক্রবার বিকেল থেকে অনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি আমানত শাহ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। নদীতে ডুবে যাওয়া ফেরিটি বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিআইডব্লিউটিসি’র কর্মকর্তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এখন ফেরিটি পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) থেকে জানা যায়, ডেনমার্ক থেকে ১৯৮০ সালে প্রায় ৫ কোটি টাকা দিয়ে এই আমানত শাহ ক্রয় করে। এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন নৌরুটে চলেছে এই রো রো ফেরি ‘আমানত শাহ’। তবে ফেরিটির বয়স ৩০ হয়ে যাওয়ার পর দুই দফায় সার্ভের মাধ্যমে ১০ বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ফিটনেস দেয় কর্তৃপক্ষ। নৌযানের তালিকা অনুযায়ী ৩৩৫ জন যাত্রী এবং ২৫টি যানবাহন বহন করার ক্ষমতা রয়েছে ফেরিটির। এর মোট ওজন ৮০৬.৬০ টন। তবে সর্বোচ্চ ১০.২৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলার সক্ষমতা থাকলেও ফেরিটির ছিল না ফিটনেস।
জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর আনুমানিক সকাল পৌনে ১০টার দিকে ১৪টি পণ্য বোঝাই ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান নিয়ে ডানে কাত হয়ে একাংশ তলিয়ে যায় পদ্মানদীতে। ডুবে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে বিআইডব্লিউটি’র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। পরে নারায়নগঞ্জ থেকে ‘প্রত্যয়’ নামে আরও একটি জাহাজ আসার কথা থাকলেও আসতে না পারায় শিমুলিয়া থেকে ‘রুস্তম’ নামে আরো একটি জাহাজ আসে।
কিন্তু এই জাহাজগুলোর ফেরি তোলার কোনো ক্ষমতা না থাকায় বিআইডব্লিউটিএ জেনুইন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে প্রায় দুই কোটির টাকার বিষয়ে মৌখিক আলাপ-আলোচনা শেষ করে। সংস্থাটি প্রাথমিকভাবে দুই কোটি টাকা এ কাজের জন্য বরাদ্দ চায়। তবে বিআইডাব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে জানানো হয় কাজ শেষে তাদের সব হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
