জিয়াউর রহমান কি পীর-আউলিয়া, কিসের মাজার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ

murad

নজর২৪, ঢাকা- রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লাশ তো দূরের কথা কোনো চিহ্নও নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান।

 

আজ রোববার (০৭ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হ ত্যা দিবসের আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

 

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান কি পীর-আউলিয়া? কিসের মাজার?

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ করে ডা. মুরাদ বলেন, জিয়ার মাজারের নামে ভণ্ডামী-বাটপারি চলবে না! ওই কবর সরাতে হবে। ওখানে কোনো খু নির মাজার থাকবে না।

 

দেশে জিয়া পরিবারের নামে কোনো প্রতিষ্ঠান থাকবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান, বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানের নামে এই বাংলার মাটিতে কোনো কিছু থাকতে পারবে না।’

 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ওই রাজাকার জামাতি, হেফাজত, ওই যে চরমোনাই পীর; টাইম নাই, টাইম নাই। এই পীরের ব্যবসা, মাজারের ব্যবসা চলবে না।’ তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দেশ, শেখ হাসিনার দেশ। তারা এই রাষ্ট্রের মালিক।

 

বিএনপি-জামায়াতকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মুরাদ বলেন, “আমরা বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আপস করি না। লড়াই করতে চাও, আসো। কোথায় করবা ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর না ময়মনসিংহে। ১৪ হাত মাটির নিচে চলে যাবা।

 

“জিয়া পরিবার বাংলাদেশেকে ধ্বংস করছে। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর মূল হ ত্যাকারী। তারেক রহমান আস, লন্ডনে গেছ কেন?”

 

আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার প্রতি নিজের আনুগত্য প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা পিতা একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন, কোনোদিন বেঈমানি করেননি। আমরা বেঈমান না।”

 

আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের হুঁশিয়ার করে মুরাদ বলেন, “যারা ব্যবসা খুলে বসছেন, ভাল হয়ে যান। দুঃসময়ের নেতাদের আমরা চিনি। নতুন নতুন হাইব্রিড নেতারা দলের ক্ষতি করবে, ঘুষ খাবে, দুর্নীতি করবে, এই বাংলাদেশে এটা করতে দেওয়া হবে না।”

 

ডা. মুরাদ হাসান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। বর্তমানে দেশে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৫৪ ডলার, বা ২৯ হাজার ৪৩০ টাকা।’

 

বাহাত্তরের সংবিধান সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যেতেই হবে। এর বাহিরে বাংলাদেশ চলতে পারে না।’

 

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ‘সম্প্রীতি’ বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন মাহতাব স্বপ্নিল, ভাস্কর রাশা। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *