ইভ্যালির কার কতো সম্মানী?

নজর২৪ ডেস্ক- ইভ্যালি নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বোর্ডের কর্মকাণ্ড পরিচালনা হবে কীভাবে? অফিস পরিচালনা এবং সম্মানী বাবদ ব্যয় মেটাতে অর্থের উৎস এখনও বের করা হয়নি। পেমেন্ট গেটওয়ে এবং ব্যাংকের কাছে ইভ্যালির অর্থ জমা থাকলেও সেই টাকা কীভাবে তোলা যাবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। চার সদস্যের সম্মানী ইভ্যালি থেকে পরিশোধের নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

 

ইভ্যালি সংকট উত্তরণে বোর্ড গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বোর্ড ধানমন্ডিতে ইভ্যালি অফিসে এরই মধ্যে প্রথম বৈঠক করেছে। তবে বৈঠকের জন্য বোর্ড প্রধান, সদস্যদের সম্মানী এবং অফিস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান হয়নি। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এই অর্থ ইভ্যালি থেকে নেবার কথা থাকলেও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকায় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

 

বোর্ড প্রধান বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, পর্ষদ পরিচালনার জন্য অর্থ দরকার। অর্থ না পেলে কীভাবে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে? এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে নিম্ন আদালতে গিয়ে অ্যাকাউন্ট চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

 

বোর্ডে যারা আছেন

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনায় চার সদস্যের বোর্ড বা পর্ষদ গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

 

এ ছাড়া পর্ষদ সদস্য আছেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. রেজাউল আহসান, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে আছেন ফখরুদ্দিন আহমেদ, আইনজীবী হিসেবে খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ। আর সরকারি বেতনে ই-ভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন সরকারের অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির।

 

কার কতো সম্মানী

পর্ষদের সম্মানী নির্ধারণ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। প্রতি বৈঠকের জন্য বোর্ড প্রধান পাবেন ২৫ হাজার টাকা। আর বার্ষিক সাধারণ সভার জন্য তাকে দেয়া হবে ২ লাখ টাকা। পর্ষদের বাকি তিন সদস্য প্রতি বৈঠকের জন্য পাবেন ১০ হাজার টাকা করে। আর বার্ষিক সাধারণ সভার জন্য পাবেন ১ লাখ টাকা করে।

 

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব কবির বর্তমান অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার বেতন পাবেন সরকার থেকে। আর এই সময়ে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে গেলে একই বেতন দেয়া হবে ই-ভ্যালি থেকে। ই-ভ্যালি থেকে পরিশোধ করা হবে সদস্যদের এ সম্মানী।

 

সম্মানী নেবার উপায়

ই-ভ্যালির পরিচালনা বোর্ডের প্রথম বৈঠক শেষে বিফ্রিংয়ে বোর্ড প্রধান বলেন, ধানমন্ডি কার্যালয়ের নিচে একটি গুদামের সন্ধান পাওয়া গেছে, সেখানে বন্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে দুটি সিন্দুক। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সিন্দুকের মধ্যে অর্থ অথবা ব্যাংকের চেক থাকতে পারে।

 

বলা হয়, ব্যাংকের চেক পাওয়া গেলে তা অর্থ উত্তোলনে সহায়তা করবে। এ ছাড়া জেলে থাকা ইভ্যালির শীর্ষ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদেও অর্থের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ধারণা করা হয়, বিদেশে পাচার করা হয়েছে অর্থ। তাই দেশে কত অর্থ আছে, তা এখনও ঠিক করে বলা মুশকিল।

 

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনায় গঠিত বোর্ড কী ধরনের কাজ করবে- সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

 

আদালত বলেছেন, লিখিত আদেশ পাওয়ার পরপরই তারা বোর্ড মিটিংয়ে বসবেন। কোথায় কী আছে, সবকিছু বুঝে নেবেন। কোম্পানি যেভাবে চলে, সেভাবে প্রথমে বোর্ড মিটিং বসবে। তাদের (বোর্ড) দায়িত্ব হলো টাকাগুলো কোথায় আছে, কোথায় দায় আছে, তা দেখা।

 

অডিট লাগবে, বোর্ড অন্য কাজগুলোও দেখবে। এরপর সবকিছু করার পর বোর্ড যদি দেখে কোম্পানিটি চলার যোগ্যতা নেই, তখন অবসায়নের জন্য প্রসিড (প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া) করবে। কোম্পানির অবসায়ন চেয়ে আবেদনকারী আবেদন করেছেন। তখন আবেদনকারীর সঙ্গে বোর্ডও বলবে, কোম্পানিটি অবসায়ন করতে হবে। আর যদি বলে চালানো সম্ভব, তাহলে কোম্পানিটি চলবে।

 

জানতে চাইলে রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাসুম বলেন, বোর্ড শুরুতেই ইভ্যালির অবস্থা সম্পর্কে অডিট করবে। তাদের কাছে দায়-দেনার পরিমাণ হিসাব, কত অর্থ তাদের কাছে ভোক্তাদের পাওনা, তাদের কত সম্পদ আছে এই পুরো বিষয়টা অর্থাৎ কোম্পানিটি কী অবস্থায় আছে সেটার একটা খতিয়ান করতে হবে। এজন্য শুরুতেই অডিট করবেন তারা।

 

তিনি বলেন, কোম্পানিটির যে দেনা রয়েছে, তা কীভাবে পরিশোধ করা যাবে, কোম্পানিটি আদৌ আর পরিচালনা করা সম্ভব, নাকি বন্ধ ঘোষণা করা উচিত, এসব বিষয়ে অডিটের পর বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। যদি কোম্পানিটি পরিচালনা করা সম্ভব হয়, তাহলে বোর্ড সেটি পরিচালনা করবে। পরিচালনা করা সম্ভব না হলে কোম্পানিটি অবসায়ন করে দেওয়া হবে। কোম্পানির নিয়মিত যেসব কাজ সেটি এ বোর্ড পরিচালনা করবে, এমনকি বাৎসরিক সভাও।

 

ব্যারিস্টার মাসুম আরও বলেন, যেহেতু ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চেয়ারম্যান কারাগারে রয়েছেন তাই এ কোম্পানি পরিচালনা করতে যা যা করতে হয় তার সবই করবে এ বোর্ড। এক মাস পর আগামী ২৩ নভেম্বর সার্বিক বিষয়ে এ বোর্ড আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *