নজর২৪, লালমনিরহাট- আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের আপন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী।
আগামী ২৮ নভেম্বর মন্ত্রীর এই স্বজন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন।
বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া সাজেদা জামান সমাজকল্যাণমন্ত্রীর ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদের স্ত্রী। তিনি নিজেও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী।
মন্ত্রীর বাড়িতেই বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়টি টক অব টাউনে পরিণত হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষদের মাঝে এ নিয়ে কৌতুহল দেখা দিয়েছে।
তুষভান্ডার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বতর্মান চেয়ারম্যান নুর ইসলাম আহমেদ।
কালীগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৪৭ প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে তাদের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এই নির্বাচন। উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে এক বা একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে।
দলে দায়িত্বশীল পদে থাকার পরেও কেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন- এমন প্রশ্নে সাজেদা জামান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল যেখানে নারী নেতৃত্বকে উৎসাহিত করছেন সেখানে ক্ষুদ্র স্বার্থের কারনে তার নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি।’
তিনি দাবি করেন, দলে তার অনেক ত্যাগ রয়েছে। অথচ তাকে বাদ দিয়ে বিএনপি করে এমন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে কেউ যদি প্রার্থী হয়ে থাকেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
কালীগঞ্জ উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৫৫ জন, সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের সদস্য ১১১ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩২৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন।
এর মধ্যে ভোটমারী ইউনিয়নে ৪ জন, মদাতী ইউনিয়নে ৬ জন, তুষভান্ডারে ৫ জন, দলগ্রামে ১৩ জন, চন্দ্রপুরে ৫ জন, গোড়লে ৬ জন, চলবলায় ৮ জন ও কাকিনা ইউনিয়নে ৮ জন।
আগামী ২৮ নভেম্বর ভোট গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ দুটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন।
