সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো: রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছে তাজুল ইসলাম (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে মাদক সেবনের দায়ে আটকের পর নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর থানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রংপুর মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে বুধবার সকালে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
রংপুর মহানগর পুলিশের অপরাধ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মেহেদুল করিমকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, উপ-পুলিশ কমিশনার ( ডিবি) কাজী মুত্তাকি ইবনু মিনান, উপপুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) আবু বক্কর সিদ্দিক এবং সহকারী কমিশনার ( পরশুরাম জোন) কাজী আরিফুজ্জামান। সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করে কমিটিকে সাত কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় হারাগাছ পৌর এলাকার নতুন বাজার বছি বানিয়ার তেপথি মোড়ে অভিযানে যায় পুলিশ। এসময় তাজুল ইসলামকে মাদকসহ আটকের পর মারধর করে পুলিশ। এসময় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলার উপক্রম হন। তখনই তাকে ধাক্কা দিলে পাশে দেয়ালে লেগে ঘটনাস্থলেই মারা যান তাজুল ইসলাম। এর পরপরই পুলিশ সেখান থেকে চলে যায়।
এদিকে তাজুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করে এলাকাবাসী। এসময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তাজুল মাদক কারবারি ও মাদকসেবী। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদকের মামলা রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় মাদক সেবন করছিলেন তাজুল এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে যায় পুলিশ।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে নিহত তাজুলের ছোট ভাই মর্তুজার রহমান আবু একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া নিহত তাজুলের কাছ থেকে মাদক উদ্ধার ও থানা ঘেরাও করে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।
এখন পর্যন্ত মমলায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকেলে তাজুলের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
