নজর২৪, গাইবান্ধা- গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পারিবারিক মামলার এক বাদিনীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েছেন সুন্দরগঞ্জ থানার তদন্তকারী দারোগা। তিনি পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক এএসআই তোফাজ্জল হোসেন।
এএসআই তোফাজ্জল হোসেন (৩৮) সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত রয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধর্মপুর (ছড়ারপাতা) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, রাত ১০টার দিকে এএসআই তোফাজ্জল হোসেন ছড়ারপাতা গ্রামের এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে আসেন। পরে গোয়ালঘরে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েন । এ ঘটনা দেখে ফেলেন ওই নারীর এক প্রতিবেশি।
এ ঘটনার পর উত্তেজিত গ্রামবাসী তোফাজ্জলকে আটক করে বাড়ির উঠানের একটি আম গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে খবর দেয়া হয় পুলিশে। খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ ও কঞ্চিবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে যান।
ওই নারীর এক প্রতিবেশি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কিছুদিন আগে ওই নারীর স্বামীর সঙ্গে তার ভাইয়ের জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। পরে ওই নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন ভাসুরের বিরুদ্ধে।
সেই মামলাটির তদন্তভার পড়ে এএসআই তোফাজ্জল হোসেনের কাছে। পরে তদন্তে গিয়ে ওই প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সখ্যতা গড়েন তিনি।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক প্রতিবেশী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কিছুদিন আগে ওই নারীর ভাশুরের সঙ্গে তার স্বামীর জমি নিয়ে বিরোধ হয়। স্বামী প্রবাসে থাকায় এই ঘটনায় ভাশুরের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই নারী। সেই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান এএসআই তোফাজ্জল। তদন্তের খাতিরে ওই গৃহবধূর বাড়িতে আসা-যাওয়া ছিল তার। সেই থেকে তাদের সখ্য গড়ে ওঠে।’
তবে বাদী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তোফাজ্জলের সঙ্গে পূর্ব পরিচয় থাকায় রাতে খেতে ডেকেছিলেন। গ্রামবাসী তোফাজ্জলকে গোয়ালঘর থেকে নয়, বাড়ি থেকে আটক করে।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহিল জামান জানান, অভিযুক্ত এএসআইকে সাময়িকভাবে গাইবান্ধা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
