শাহজাদপুরে হামলার মুখে নিরাপত্বহীনতায় ভুগছে অসহায় একটি পরিবার!

রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে একটি অসহায় পরিবার হামলার স্বীকার হয়ে নিরাপত্বাহীনতায় প্রতিনিয়ত আকঙ্কে রয়েছে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যেই হামলার ও লুটপাটের ঘটনায় শাহজাদপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের চর-বেলতৈল পশ্চিম পাড়ায় বসাবাস করে বার্ধক্যজনিত শয্যাশায়ী একজন বৃদ্ধ শহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী মোছাঃ মনোয়ারা খাতুন, তাদের মেয়ে রানু খাতুন, পুত্রবধু আইভী আক্তার এবং ৬ মাস, ৬ বছর ও ৯ বছর বয়সী তিনটি নাতি নাতনী সহ একটি পরিবার।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ই অক্টোবর বৃদ্ধ শহিদুল ইসলামের বাড়িতে প্রতিবেশী শাহজাহান, তার স্ত্রী শিল্পী খাতুন, ছেলে বাধন ভাগিনা রিপন, বোন শান্তনা ও বোনের স্বামী রফিকুল ইসলাম সহ আরো বেশ কয়েকজন সঙ্গবদ্ধ হয়ে দাঁ, কুড়াল, বটি দাঁ, লাঠি, ফালা, রামদা নিয়ে শহিদুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় ঘরে রক্ষিত স্বর্ণালঙ্কার, ধান, চাউল ও সরিষা লুট করে নিয়ে যায় এবং বাড়ির লোকজনকে ধাড়ালো অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখায়।

 

মামলার বাদী শহিদুল ইসলামের মেয়ে রানু খাতুন জানায়, গত ১৫ই অক্টোবর প্রতিবেশী শাহজাহান, তার স্ত্রী শিল্পী খাতুন, ছেলে বাধন, ভাগিনা রিপন, বোন শান্তনা ও বোনের স্বামী রফিকুল ইসলাম সহ আরো বেশ কয়েকজন সংগবদ্ধ দাঁ, কুড়াল, বটি দাঁ, লাঠি, ফালা, রামদা নিয়ে আমাদের বাড়ির খোলা আঙিনায় আমার উপর হামলা চালিয়ে মারধর করে আহত করে এবং এসিডে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এই ঘটনার পরই উপরের উল্লেখিত ব্যাক্তিরা আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমার মা ও ভাবিকে লাঞ্ছিত করে লুটপাট চালায়।

 

বৃদ্ধ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন বলেন, আমার বোনের ছেলে আব্দুর রহমানের হত্যাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জের ধরে আমার তিন ছেলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।অথচ এলাকার সবাই জানে আব্দুর রহমান পরকীয়া প্রেমের কারণে হত্যাকন্ডের শিকার হয়েছে। হত্যাকান্ডের বিষয়ে আমার ছেলেদের কোন সংশ্লিষ্টতা কেউ পায়নি।

 

তিনি আরো বলেন, মিথ্যা মামলায় আমার বড় ছেলে মনিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ জেলহাজতে রয়েছে এবং বাকী ২ ছেলে হামলা ও গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকায় আসেনা। এই পরিস্থিতিতে আমরা নিরাপত্বাহীনতায় প্রতিটি মুহুর্ত অতিবাহিত করছি।

 

এই বিষয়ে অভিযুক্ত শাহজাহানের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রীকে তার নাম জিজ্ঞাসা করা হলেও তিনি নাম জানাতে অস্বীকৃতি জানান। পরে রানু খাতুনের উপর হামলার বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি অন্য প্রসঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। পরে হামলার বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহজাদপুর থানার ওসি (অপারেশন এন্ড কমিউনিটি পুলিশিং) আব্দুল মজিদ বলেন, রানু খাতুনের মামলার আংশিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আমরা আরো তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *