আমরা এই রাষ্ট্রের হাল ধরতে চাই: ভিপি নুর

নজর২৪, ঢাকা- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ‘বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদ’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দিয়েছেন।

 

মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে পুরানা পল্টনের জামান টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নাম ঘোষণা করেন তিনি। নতুন এই দলের আহ্বায়ক ডক্টর রেজা কিবরিয়া এবং নুরুল হক নুর সদস্য সচিব।

 

ভিপি নূর বলেন, নতুন এই দলের স্লোগান হবে, ‘জনতার অধিকার, আমাদের অঙ্গিকার’। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ-এই চারটি মূলনীতির ওপর পরিচালিত হবে নতুন এই রাজনৈতিক দল।

 

নুরুল হক নূর আরও বলেন, দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার পূরণে অসহায় অবস্থানে পড়ে আছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এভাবে চলতে পারে না। দেশবাসীর সকল অপ্রাপ্তির বেদনা বদলে দেয়ার জন্যই আমরা এই রাষ্ট্রের হাল ধরতে চাই।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান, আবু হানিফ, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, শ্রমিক অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান প্রমুখ।

 

নাম ঘোষণার এই সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচির ২১ দফা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি প্রতিরোধ, ক্ষমতার ভারসাম্য, ন্যায় বিচার ও সুশাসন, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার, সংখ্যালঘু জাতিসত্ত্বা ও ধর্মাবলম্বী, দখল ও দূষণ প্রতিরোধ, জ্বালানি ও খনিজ এবং সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি।

 

এর আগে দুই দফায় নতুন দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের তারিখ ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় সেই তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার নুর তার ফেসবুক পেজে লেখেন, গত মাসের ৩০ তারিখ দল ঘোষণার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় সেটা সম্ভব হয়নি। পরিবর্তিত তারিখ আবার এই মাসের ২০ তারিখ করা হয়েছিল। প্রশাসনিক জটিলতায় ভেন্যু না পাওয়ায় সেটিও পরিবর্তন করে আবার ২৬ অক্টোবর প্রোগ্রাম করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

 

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে নতুন একটি রাজনৈতিক দল করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন নুরুল হক নুর। এজন্য ছাত্র অধিকার পরিষদ, যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ, প্রবাসী অধিকার পরিষদসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গ সংগঠন গঠন করেছিলেন তিনি।

 

২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন নুর। পরে ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। তিনি বেশ কয়েকবার ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আক্রান্ত হন। বর্তমানে তার নামে ১৭টি মামলা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *