নজর২৪, কুমিল্লা- কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় পুলিশের শনাক্ত করা সেই ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন তাঁর মা।
তবে তাঁর মায়ের ধারণা নে শা গ্র স্ত ও মানসিক ভারসাম্যহীন ইকবালকে কেউ ব্যবহারও করতে পারে। ইকবালকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদেই সব জানা যাবে বলে দাবি করেছেন তাঁর মা।
গতকাল বুধবার রাতে গণমাধ্যমকে এসব কথা জানান অভিযুক্ত ইকবালের মা আমেন খাতুন।
আমেনা খাতুন জানান, ইকবাল নে শা করত। বন্ধুদের সঙ্গে মা রা মা রির পর সে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এ কারণে ইকবালের প্রথম স্ত্রী চলে যায়। পরে আবারও ইকবালকে বিয়ে দেওয়া হয়। দুই সংসারে তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সে বিভিন্ন সময় আমাকে ও তাঁর স্ত্রী–সন্তানদের মা র ধর করত।
আমেনা খাতুন বলেন, পূজামণ্ডপের ঘটনার পরপরই ইকবালের সঙ্গে আর দেখা হয়নি। সে যদি এ কাজ করে থাকে আমরা তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করব। এর বিচার আমরাও চাই। তবে ইকবাল নে শা গ্র স্ত ও ভারসাম্যহীন হওয়ায় তাঁকে কেউ ব্যবহারও করে থাকতে পারে। তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তার করলে বিস্তারিত জানা যাবে।
ইকবালের বড় বোন ফারজানা আক্তার বলেন, আমরাও চাই সে দ্রুত গ্রেপ্তার হোক। সে গ্রেপ্তার হলে আমাদের চাপ কিছুটা কমবে।
ইকবালের ছোটভাই রায়হান সাংবাদিকদের কাছে বলেন, সিসিটিভির ফুটেজের এই মানুষ আমার ভাই। সে পাগল। তবে সে নে শা করে কিনা সেটা আমার জানা নাই।
রায়হান জানান, ঘটনার এক সপ্তাহ আগে খেলার মাঠে তাকে নিয়ে ছেলেরা দুষ্টামি করায় সে সবাইকে জুতা দিয়ে মে রে ছিল। তিনি বলেন, যে মানুষ মাকে পাথর নিয়ে মা র তে চায় সে বুঝে শুনে এমন কাজ করার কথা না। ওকে চা-পানি, নাস্তা করালে যা বলবে তাই করবে।
রায়হান বলেন, তার ভাই যদি অন্যায় করে থাকেন, যদি তা সত্য হয়, তাহলে তার শা স্তি হোক। তবে ইকবাল কারও প্ররোচনায় এমন কাজ করতে পারেন।
এর আগে, কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে ধর্ম অবমাননার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দায়ী ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জানা যায়, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত ঐ যুবক কুমিল্লা নগরীর সুজানগর এলাকার নূর আহাম্মদ আলমের ছেলে ইকবাল হোসেন (৩০) এবং সে বিভিন্ন মাজারে ও যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানো (ভবঘুরে) হিসেবে পরিচিত। রাতে জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রসঙ্গত, শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীর দিন গত বুধবার ভোরে কুমিল্লা শহরের নানুয়াদীঘির উত্তর পাড়ে দর্পণ সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরীফ পাওয়া যায়। এরপর কোরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগ তুলে ওই মণ্ডপে হামলা চালায় একদল লোক।
এ ঘটনার জের ধরে ওই দিন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা করতে যাওয়া একদল ব্যক্তির সঙ্গে পুলিশের সং ঘর্ষ হয়। যেখানে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এরপর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান করে ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাদের সবাইকে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই নেপথ্যে থাকা ‘মাস্টারমাইন্ড’দের শনাক্ত করা যাবে এমনটাই বিশ্বাস পুলিশের।
