পুলিশ গ্রেফতার করতে গেলে মহিলাদের আাঁচল দিয়ে বেঁধে রাখবেন: কাদের মির্জা

নোয়াখালী প্রতিনিধি: আমাদের কোনো নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করতে গেলে মহিলাদের আঁচল দিয়ে পুলিশকে বেঁধে রাখবেন। পরে যা হবার তা হবে। তাদের বিরুদ্ধে নারী চরিত্র হরনের মামলা দিবো। আসামি ধরতে গেলে আপনারা ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখবেন। কোন অবস্থায় ঘরের দরজা খুলবে না। এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা।

 

শনিবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে বসুরহাট বাজারের জিরো পয়েন্টের বঙ্গবন্ধু মুর‌্যালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌরসভা মহিলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে মহিলা আওয়ামীগের নেত্রীবৃন্দের উদ্দেশ্যে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব, ঘরে ঘরে গ্যাস, চাকরি ও দক্ষিণাঞ্চলের নদী ভাঙ্গন রোধে এ বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে কাদের মির্জার অনুসারী মহিলা আওয়ামীলীগ।

 

এসময় তিনি ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি ভোট আসলে যে মিষ্টি ভাষায়, সাহিত্যের ভাষায় মহিলাদের সাথে কথা বলেন। আজ দুই বছর আপনি কোথায়? আপনি এলাকায় কি এসেছেন? আপনার পিএসকে মাসে একবার পাঠাবেন কোম্পানীগঞ্জ এবং কবিরহাটের খবর নেওয়ার জন্য সেটাও পাঠাননি। গত কয়েকদিন আগে বলেছেন, গ্যাসের অনুমোদন হয়েছে। ঘরে ঘরে গ্যাস দিবেন।

 

কাদের মির্জা বলেন, নোয়াখালীর এসপি কত টাকা খাইসে আল্লাহই জানেন? আল্লাহর গজব তার ওপর পড়বে। আজকে কোম্পানীগঞ্জে সরকারি খাল আমি দখলমুক্ত করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাকে বাঁধা দিচ্ছে। পুলিশ কত টাকা খেয়েছে জবাব দিতে হবে। এখানে জবাব না দিলে আল্লাহর আদালতে দিবেন। আর যদি আমাদের একটি ছেলেকে গ্রেপ্তার করে, আপনারা সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে আসবেন। আর ছেড়ে দেওয়া হবে না। আজকে এসপি কোম্পানীগঞ্জে যে নির্যাতন চালাচ্ছে তা আর মেনে নিবো না।

 

তিনি বলেন, যদি আমাদের দাবি মানা না হয় তাহলে আগামী শনিবার বিকাল ৩টায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ, সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রলীগ এবং বসুরহাট পৌরসভা ছাত্রলীগের উদ্যেগে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে আরও কঠিন কর্মসূচি আমরা ঘোষণা করবো। আমরা ইউএনও অফিস ঘেরাও করবো, আমরা ঢাকাতে সাংবাদিক সম্মেলন করবো, অনশন করবো, মানববন্ধনসহ আরো বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবো। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরবো না। গত কিছুদিন যাবত প্রশাসন এখানে দূঃশাসন চালাচ্ছে। আজকে নোয়াখালীর কুখ্যাত এসপি রিমান্ড বাণিজ্য, শ্যোন অ্যারেস্ট বাণিজ্য কাজে সহযোগিতা করছেন। কোম্পানীগঞ্জের কুত্তা ওসি এগুলো করতেছে। তারপর কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও কোম্পানীগঞ্জের খাস সম্পত্তি গুলো ভূমিদস্যুদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।

 

তিনি আরো বলেন, মন্ত্রী বলেছেন ঘরে ঘরে চাকরি দিবেন, ঘরে ঘরে গ্যাস দিবেন, এখন পর্যন্ত আমরা গ্যাস পাই নাই। গুটি কয়েক ছেলে মেয়ে ছাড়া, কারো চাকরি হয় নাই। তাছাড়া এ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ এলাকায় নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। তাদের থাকার জায়গা নেই। তাই আজ এখানে মহিলারা একত্রিত হয়েছে আমাদের দাবি আদায়ের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *