নজর২৪, ঢাকা- কারাগারে থাকা আলেমদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের নেতারা। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তারা এ আহ্বান জানান। হেফাজতে ইসলাম ও তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের তিন শীর্ষ মুরুব্বি শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমাদ শফী, শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী ও মুফতিয়ে আজম আব্দুস সালাম চাটগামীর ‘জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির আল্লামা শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী। অসুস্থতার জন্য সভায় উপস্থিত হতে পারেননি হেফাজতে ইসলামের আমির ও তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তবে তার পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনানো হয়।
প্রধান বক্তা হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব ও আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের সভাপতি আল্লামা নুরুল ইসলাম বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে আলেমদের একের পর এক চলে যাওয়া জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের। আমরা মরহুম সব আলেম-উলামার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি। আল্লাহ যেন সবাইকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করেন।
তিনি আরো বলেন, সরকার আমাদের অনুরোধে অনেক আলেম-উলামাকে মুক্তি দিয়েছে। এজন্য আমরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা অনুরোধ করবো, যারা এখনো জেলের মধ্যে আছে, তাদেরকে মুক্তি দেয়া হোক। আমরা আশা করবো সরকার আমাদের অনুরোধ রক্ষা করবে। এ ছাড়াও সরকারের প্রতি আহ্বান থাকবে, দেশের মধ্যে অরাজকতা তৈরির চেষ্টাকারী কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা হোক। তারা দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরির পায়তারা করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে তারা দেশের মধ্যে অরাজকতা তৈরি করতে পারে।
হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানীর সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মুফতি মুবারকুল্লাহ, মাওলানা সাজিদূর রহমান, মাওলানা মাহফুজুল হক, বেফাক মহাসচিব মাওলানা শিব্বির আহমদ রশিদ, মুফতী হাবিবুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আহমদ আলি কাসেমী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুরি, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরি, মাওলানা আব্দুল কাইউম সুবহানী, মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ আজহারি ও মাওলানা ফয়সাল প্রমুখ।
লিখত বক্তব্যে মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, যাদের স্মরণে আজকের এ আয়োজন, তারা সবাই ছিলেন আমার অত্যন্ত কাছের মানুষ। হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির ও হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা শাহ আহমদ শফী ছিলেন আমাদের রাহবর। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের আলেম সমাজের অভিভাবক। তিনি নাস্তিকবাদী শক্তির বিরুদ্ধে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি উম্মাহর কল্যাণে যে অবদান রেখে গেছেন, তা এ দেশের মানুষ আজীবন স্মরণ রাখবে। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের আলেম সমাজের মধ্যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। আমরা তার দারাজাত বুলন্দির জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি।
হেফাজত আমির আরো বলেন, হেফাজতে ইসলামের দ্বিতীয় আমির ও বাংলাদেশের তৌহিদী জনতার আপসহীন রাহবার শাইখুল হাদীস আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী একাধারে একজন প্রসিদ্ধ শাইখুল হাদীস, লেখক ও সংগঠক ছিলেন। তিনি যে মানের আলেম ছিলেন, তার সমপর্যায়ের কেউ বর্তমানে নেই। আল্লামা বাবুনগরী হেফাজতের আন্দোলনের শুরু থেকে মাঠে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এজন্য তাকে জেল-জুলুম সহ্য করতে হয়েছে। এত কিছুর পরও তাকে কেউ নীতি থেকে সরাতে পারেনি।
তিনি আরো বলেন, নানা অপবাদ দেয়া হয়েছে বাবুনগরীর নামে। মৃত্যুর আগে নানারকম চাপেও ছিলেন তিনি। মহান আল্লাহ তাকে নিয়ে গেছেন। আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কখনো পূর্ণ হয়ার নয়।
সরকারের কাছে কারবন্দী উলামায়ে কেরামের মুক্তির দাবি জানান হেফাজত আমির। একইসাথে তিনি বলেন, যারা জেলের ভেতরে আছেন, আল্লাহ তাদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুক, যারা বাইরে আছেন, আল্লাহ তাদের হেফাজত করুন।
