রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও আমরণ অনশনে দিনভর উত্তাপ ছড়িয়েছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বিসিকে অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস।
দিনশেষে অনশনরত শিক্ষার্থীরা ছাড়া বাকি শিক্ষার্থীরা রাত ৯টায় তাদের হোস্টেলে ফিরেছিলেন। হঠাৎ খবর রটে ছাত্রদের মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন অনশনরত শিক্ষার্থীদের কাছে আসবেন। শিক্ষার্থীদের মাঝে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই আবারো বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস চত্বর।
এদিকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে রাত ১০টার দিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মাইক্রোবাস ক্যাম্পাস চত্বরে প্রবেশ করে। সেই গাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসেন রেজিস্ট্রার সোহরাব উদ্দিন, সঙ্গীত বিভাগের চেয়ারম্যান রওশন আলম, পরিকল্পনা অফিসার শিবলি সাদিক।
তাদের দেখে আরো উত্তেজিত হয়ে উঠেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসময় অভিযুক্ত ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরণের শ্লোগান দিতে থাকে তারা।
পরে আগত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা প্রায় ২০ মিনিট ক্যাম্পাসে অবস্থান করে বেড়িয়ে যান।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, তারা এসেছিল ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন আসার পরিবেশ আছে কিনা সেই বিষয় পর্যবেক্ষণ করার জন্য। যখন দেখেছে পরিস্থিতি বেগতিক তখন তারা চলে যান।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিক্ষার বিষয় নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন রোববার ১৬ জন ছাত্রের মাথার চুল কেটে দেন এবং তাদের লাঞ্ছিত করেন।
পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন সেই ১৬ ছাত্রকে ডেকে নিয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান।
চুল কাটার বিষয়, সহকারি প্রক্টর দ্বারা হুমকি ও লাঞ্ছিত হওয়ার পর হতাশাগ্রস্থ্য হয়ে নাজমুল হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী ঘুমের ঔষধ খেয়ে আ.ত্মহ.ত্যার চেষ্টা করেন। পরে সহপাঠিরা তাকে উদ্ধার করে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
