দাবি আদায়ে আমরণ অনশনে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: আমরণ অনশনের ঘোষনা দিয়েছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বুধবার বেলা ৩টা থেকে ক্যাম্পাস চত্বরে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের চাকরিচ্যুতির দাবিতে তারা এই অনশন শুরু করেন।

 

এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান, সহকারী প্রক্টর, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য এই তিনটি পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

 

তবে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণ বা পদত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সেই সঙ্গে তারা ৪দফা থেকে সরে এসে এখন এক দফা আন্দোলনের ডাক দিয়ে আমরণ অনশন করছেন।

 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত রোববার দুপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিচিতি বিষয়ের ফাইনাল পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় ওই বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন আগে থেকে কাঁচি হাতে পরীক্ষার হলের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন।

 

শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশের সময় যাদের মাথার চুল হাতের মুঠোর মধ্যে ধরা যায়, তাদের মাথার সামনের অংশের বেশ খানিকটা চুল তিনি কাঁচি দিয়ে কেটে দেন। এভাবে একে একে ১৪ জন শিক্ষার্থীর চুল তিনি কাঁচি দিয়ে কেটে দেন। এরপর পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থীদের পরিবার তুলে গালিগালাজ করেন। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি ব্যাপক ভাইরাল হয়।

 

এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান তুহিনকে তার চেম্বারে ডেকে নিয়ে গালিগালাজ করেন ও রবি থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের হুমকি দেন। এতে ভয়ে তুহিন সোমবার রাত ৭টার দিকে দ্বারিয়াপুরের শাহমখদুম ছাত্রাবাসের নিজ কক্ষে দরজা বন্ধ করে ঘুমের বড়ি সেবন করে আ.ত্মহ.ত্যার চেষ্টা করেন।

 

রাত ৮টার দিকে সহপাঠীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকের কলেজে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

 

এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই রাতেই রবি ক্যাম্পাসে ছুটে এসে বিক্ষোভ করেন। গভীর রাত পর্যন্ত তাদের এ বিক্ষোভ চলে। পরে মঙ্গলবার সকাল থেকে তারা আবারও বিক্ষোভ শুরু করলে ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে ওঠে।

 

পরে দুপুর ১২টায় রবি ক্যাম্পাসে ছুটে আসেন ভিসি মোঃ আব্দুল লতিফ, তিনি ছাত্রদের আলোচনায় বসার আহবান জানালে শিক্ষার্থীরা রাজি হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে দীর্ঘ সময় আলোচনা মধ্যে কোন সমাধান না হলে শিক্ষার্থীরা আবারো ক্যাম্পাসে ফিরে এসে বিক্ষোভ শুরু করে।

 

বুধবার শিক্ষার্থীদের শ্লোগানে সারাদিন ক্যাম্পাস উত্তাপ ছড়ায়, পরে বেলা ৩টায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমরণ অনশনের ঘোষনা দেওয়া হয়। এবং এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অনশন চলতে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *