রাকিবুল ইসলাম রাফি, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাজবাড়ীর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনের বাকি এক মাসেরও বেশি সময়। কিন্তু সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ ও গণসংযোগে এখনই পুরোদমে নির্বাচনী হাওয়া বইছে রাজবাড়ীর পাঁচ উপজেলা রাজবাড়ী সদর, পাংশা, বালিয়াকান্দি, কালুখালি ও গোয়ালন্দ ৩য় ধাপে পর্যায়ক্রমে এখানকার ৪২টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য প্রায় দুই শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী এখন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে তৎপরতা বেশি আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের।
দলীয় প্রতীকে গত ২১ জুন প্রথম ধাপের ২০৪টি এবং স্থগিত ১৬০টিতে ভোট হয় ২০ সেপ্টেম্বর। তবে মোট চার ধাপে দেশব্যাপী ইউপি নির্বাচন শেষ করার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। যে কারণে পর্যায়ক্রমে আগামী ফেব্রুয়ারীর মধ্যে মোট ৪ হাজার ১০০টিরও বেশি ইউপিতে ভোটের আয়োজন করতে হবে ইসিকে। আগামী দ্বিতীয় ধাপে ১০০০টি ইউপির ভোট গ্রহণ শেষ হবে নভেম্বরের মধ্যে।
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার ৩নং যশাই ইউনিয়নে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনজন মাঠে নেমেছেন। তবে তাদের মধ্যে উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যশাই ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ছিদ্দিক মন্ডলের জনসমর্থন সবচেয়ে বেশি বলে জানা যায়। ৭নং পাট্টা ইউনিয়নেও রয়েছে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সহ মোট চার প্রার্থী।
এদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছে ইউনিয়ন আ.লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও জনদরদী খ্যাত স্কুল শিক্ষক ইউনুস আলী বিশ্বাস। ৮নং সরিষা ইউনিয়নে রয়েছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সোবহান। তবে উপজেলার ১০ নং কসবামাজাইল ইউনিয়নে দেখা যায় একটু ব্যতিক্রম চিত্র। এই ইউনিয়নে এবারের নির্বাচনে জেলার সবচেয়ে তরুণ সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছে শাহরিয়ার সুফল মাহামুদ। বেশ অল্প সময়েই এলাকার তরুণ প্রজন্ম ছাড়াও মানবিক আচরণের মধ্য দিয়ে মন জয় করেছে বয়স্কদেরও। নির্বাচনের ভোটের মাঠে লড়াই করতে চান আ.লীগের দলীয় প্রতীকে।
এছাড়া জেলার কালুখালি উপজেলার একাধিক প্রার্থী জানান, দলীয়ভাবে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তাঁরা চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
বালিয়াকান্দি উপজেলার ৭টি ইউপি বর্তমান চেয়ারম্যান প্রার্থী ২৬ জন। যারা সবাই আ. লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানান। এ ছাড়া সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেও আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে নেমেছেন।
জেলা আ.লীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আলী আকবর মর্জি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে দলের একাধিক প্রার্থী রয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর যাচাই বাছাই করে যোগ্য একজনকে দলের একক চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা দেবে দল।
জেলার প্রতিটি গ্রাম এখন সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগে মুখর। ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে দোয়া চাইছেন তাঁরা। এখানেও আ.লীগের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অন্তত ২০০ জন প্রার্থী। এর মধ্যে কয়েক জন জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি সমর্থক রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
জেলা আ.লীগের সাবেক সহসভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ফকির জব্বার বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এমন অনেকে দলের মনোনয়ন পেতে তদবির করছেন। এমনকি জামায়াতের সমর্থক কয়েকজনও মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
এখন পুরোদমে নির্বাচনী আমেজ চলে এসেছে জেলা জুড়ে। ভোটাররা এখনই আলোচনা শুরু করেছেন।
ইউপিতে দলের একাধিক প্রার্থী সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা আ.লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী জানান, দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন শুরু হয়েছে। তাই পরীক্ষিত, ত্যাগী, যোগ্য ও শিক্ষিত ব্যক্তিকেই দলের একক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে আমি মনে করি।
তিনি বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রতিটি ইউপি থেকে দলের প্রার্থী নির্বাচন করে জেলা কমিটির কাছে পাঠাবে। একক প্রার্থী মনোনয়নের জন্য প্রার্থীদের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হবে। কেন্দ্র যাচাই-বাছাই করে একক প্রার্থী ঘোষণা দেবে।
তবে ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের ভোট শেষ হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত এই নির্বাচনে জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাইসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনি সহিংসতায় অন্তত ছয় জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই অবস্থায় সন্ত্রাসের জনপদ খ্যাত রাজবাড়ীতে আসন্ন নির্বাচন কতটুকু, সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ হবে সেটাই দেখার বিষয়।
