নজর২৪ ডেস্ক- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে।
একটি ঘরোয়া আয়োজনে এই কটূক্তির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
এই ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, মেয়র মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে মেয়রের দাবি, ভিডিও কারসাজি করা। যেসব কথা শোনা যাচ্ছে, সেগুলো সুপার এডিট করা। তিনি এখন দেশের বাইরে আছেন, ফিরেই মামলা করবেন।
এদিকে মেয়রের বক্তব্যের প্রতিবাদে গাজীপুরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা হয়েছে। গাজীপুরের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এই প্রতিবাদ সভায় আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
গত মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউবে মেয়র জাহাঙ্গীরের একটি ভিডিও বক্তব্য পোস্ট করা হয়। ৪ মিনিট ৪ সেকেন্ডের এ ভিডিওর শুরুতে দেখা যায় তিনি চেয়ারে বসে কথা বলছেন। পাশ থেকে তা গোপনে ধারণ করা হয়েছে। কয়েক সেকেন্ড পরে ভিডিওতে জাহাঙ্গীরের ছবি দেখা যায়নি। শুধু কথা শোনা যায়। সেখানে জাহাঙ্গীরকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের বঙ্গবন্ধু ৩০ লাখ (মুক্তিযোদ্ধা) মারাইছে। ৬৪ জেলায় ৪৫ হাজার করে মরেছে প্রতি জেলায়। তাঁর স্বার্থ উদ্ধার করে নিয়েছে।’
জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ভাওয়ালের রাজার ৩৫ হাজার একর সম্পত্তি ছিল। আমি রাসেল সাহেবকে এ কারণেই ফেলছি। আমি চাইছি সে ভুল করুক। পলিসি ডায়ালগে সে ভুল করুক। আজমত উল্লাহ আমাকে মারার জন্য লোক ভাড়া করেছে। এখন সে আমার কর্মী হয়েছে।’ তাঁকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমি বিএনপি, জামায়াত সবার সঙ্গেই চলি। ঘণ্টা তিনেক আগেও বাবুনগরী ৪৭ মিনিট কথা বলেছেন। সে আসতে চায়। আমার এখানে সাড়ে ৩০০ বিঘা জমি আছে। নির্বাচনের সময় ১০ হাজার কোটি টাকা আনছি।’
এই ভিডিওর ব্যাপারে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি জাতির পিতার নামে অসম্মানজনক কোনো মন্তব্য করিনি। একটি মহল আমার জনপ্রিয়তায়, এলাকার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতি পাওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমি দেশের বাইরে থাকায় একটি মহল আমার বিভিন্ন সময়ের আলাদা আলাদা বক্তব্য বা কথাকে একসঙ্গে যুক্ত করে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি যখন ভাওয়াল কলেজের ভিপি নির্বাচন করেছি, তখন থেকেই একটা মহল আমার বিরোধিতা করেছে। সেই বিরোধীরা উপজেলা নির্বাচন, সিটি করপোরশেন নির্বাচনসহ আজও সক্রিয়। আমি দেশে ফিরে মামলা করব।’
বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর দুই সদস্য ও সম্পাদকমণ্ডলীর পাঁচ সদস্যের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, বিষয়টি শোনেননি বা দেখেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, ‘ইউটিউবের কথা আমি বিশ্বাস করি না। আজকাল এসব মাধ্যমে খণ্ড খণ্ড একত্রিত করে চটকদার বক্তব্য বানিয়ে অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ করা হয় এখানে। এটার ওপর ভিত্তি করে কোনো কথা বলা যায় না।’ তবে ওই নেতা বলেন, এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা সেটা আমি দেখব। যদি বলা হয়ে থাকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম দ্বীপ নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, যে অডিওটি গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেটা যদি এডিটিং করা হয়ে থাকে এটা আপনাকেই প্রমাণ করতে হবে এবং সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। আর যদি প্রমাণ করতে না পারেন তাহলে নৈতিকভাবে আপনার অবস্থান কি হওয়া উচিত তা আপনিই ভালো জানেন!
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান বলেন, ‘তাঁর (মেয়র) বক্তব্য ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আপত্তিজনক কটূক্তি করেছে। এটা নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগ বৈঠকে বসছে। আমরা তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাইব।’ তিনি বলেন, ‘সে (জাহাঙ্গীর আলম) সবার বিরুদ্ধে বলে। সেটা আমরা গায়ে মাখি না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু, রাষ্ট্র ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে যেভাবে কথা বলেছে, তা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। এর বিরুদ্ধে আমাদের দল, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘বিষয়টি আমি দেখব। যদি সেটা বলে থাকে তা অবান্তর ও বাজে কথা। জাতির পিতাকে নিয়ে বাজে কথা বলার অধিকার কারও নাই।’
