নবীগঞ্জে উদ্বোধনের আগেই ভেঙে গেল সাড়ে ৮ কোটি টাকার সড়ক!

road n234

এম. এ মুহিত, নবীগঞ্জ থেকে: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়কের সংস্কার কাজ নির্ধারিত সময়ের ৬ মাস বিলম্বে সম্পন্ন করেও উদ্বোধনের আগেই বেহাল দশা এই সড়কের। ভেঙে গেছে এ সড়কটির অনেক অংশ। সড়কের অনেকস্থানে বড় বড় গর্তেরও সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য- সড়কের অনেক স্থান ভেঙে তৈরি হয়েছে মরণ ফাঁদ।

 

জনগুরুত্বপূর্ণ নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়কের অনেক স্থানে উঠে গেছে কার্পেটিং। নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারের কারণেই উদ্বোধনের আগেই ভেঙে গেছে সড়ক এমন অভিযোগ সাধারণ মানুষের। সড়কটির ভাঙা অংশ সংস্কার করে দেয়ার জন্য সংশ্লীষ্ট ঠিকাদারকে চিঠি দিলে কাজের কাজ কিছু হয়নি।

 

এলজিইডির সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের শেষের দিকে নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়কের প্রায় সাড়ে ১০ কিলোমিটার অংশ জুড়ে ৮ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজের টেন্ডার হয়। পরে কাজটি টেন্ডারে পায় হবিগঞ্জের ঠিকাদার মিজানুর রহমান শামীমের প্রতিষ্ঠান মের্সাস হাসান বিল্ডার্স। কার্যাদেশ পাওয়ার পর গত ২০১৮ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে এ সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে ও নিম্নমানের মালামাল দিয়ে এ সড়কর কাজ করে আসছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও ধীর গতিতে মনগড়া কাজ করায় সময়সীমাও শেষ হয়ে যায়, কিন্তু কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। এতে তখন সময় ভোগান্তিতে পড়েন ওই সড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীরা।

 

এ ঘটনায় তখন সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় এতে নড়েচড়ে বসে কর্তৃপক্ষ। এরপর দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয় এলজিইডি অফিস। এরপর নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার প্রায় ৬ মাস বিলম্বে মনগড়া কাজ সম্পন্ন করা হয়।

 

সড়কের সংস্কার কাজ শেষে বর্তমানে উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারের কারণে কাজ শেষ করার পর থেকেই বিভিন্নস্থানে ভেঙে গিয়ে সৃষ্টি হয় গর্তের, উঠে যায় সড়কের কার্পেটিং। এরই মধ্যে নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়কের নাদামপুর মাদ্রাসা পয়েন্টে ইতোমধ্যে সড়ক ধ্বসে গেছে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এছাড়াও নাদামপুর স্কুল, বাউসা পয়েন্ট, বাউসা মাদ্রাসা পয়েন্ট, রিফাতপুর, বাউসা বাজারসহ সড়কের অধিকাংশস্থানের কার্পেটিং উঠে গেছে এবং ভেঙে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

 

উদ্বোধনের আগেই সড়ক ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ মিলাদ এমপি সড়ক সংস্কারের আগে উদ্বোধন করতে অনিহা প্রকাশ করেন। পরে সংসদ সদস্য উপজেলা প্রকৌশলী ও টিকাদারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দ্রুত রাস্তা মেরামত করার নির্দেশ দেন।

 

এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানান, এই সড়কটি র্দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর সংস্কার হলেও নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করায় সড়কটির অধিকাংশ স্থান ভেঙে গেছে। নাদামপুর পয়েন্টে সড়ক নদীতে ধ্বসে গেছে, এবং বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এর ফলে যানবাহন চলাচলে অনেক ঝুঁকি রয়েছে।

 

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাব্বীর আহমেদ বলেন,নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়কটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক, পাহাড়ি ঢলের কারণে সড়কের অনেক স্থান ভেঙে গেছে। ঠিকাদারকে চিঠি দেয়ার পর সংস্কার করে দেয়। কিন্তু ফের ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগীতায় সড়কের ভাঙা অংশ মেরামতের জন্য ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। বার বার ভেঙে যাওয়া অংশ মেরামত করলে আশা করি জনগণের দুর্ভোগ লাঘব হবে।

 

এ প্রসঙ্গে হবিগঞ্জ- ১ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ মিলাদ এমপি বলেন, নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়ক একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক, হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। সড়ক নির্মাণের পর ভেঙে যাওয়ায় সংশ্লীষ্টদের দ্রুত সড়ক মেরামতের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বড় ভাঙা অংশ মেরামতের জন্য ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *