নজর২৪ ডেস্ক- দেশের মানুষের জন্য করোনার ভ্যাকসিন কিনতে ৮ থেকে ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে, আর এসব টিকা প্রয়োগ করতে সরকারের ‘কয়েক হাজার কোটি’ টাকা ব্যয় হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। একারণে ভ্যাকসিন কার্যক্রম আগামীতে আরও ভালো হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শ্যামলীতে ২৫০ শয্যা টিবি হাসপাতালের ‘ওয়ান স্টপ টিবি সার্ভিস সেন্টার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ভ্যাকসিনে আমাদের দেশ বেশ ভালো করেছে দাবি করে জাহিদ মালেক বলেন, আমরা তো ভ্যাকসিন তৈরি করি না। যেসব দেশে ভ্যাকসিন তৈরি হয়, তারা হয়তো আরও বেশি দিয়েছে। কিন্তু জোগাড় করেছি আমরা। প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বলেছি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে টিকা ক্রয় করে নিতে হবে- উনি এক মুহূর্ত দেরি করেন নাই। বলেছেন- অর্ডার দিয়ে দাও। আমরা চীন থেকে ছয় কোটি টিকা কিনেছি। উনি এক মুহূর্ত দেরি করে নাই বলেছেন অর্ডার দিয়ে দিতে। কাজেই এই দুই অর্ডারে প্রায় ১৬ কোটি ভ্যাকসিন কেনা হবে।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের ভ্যাকসিন এখন শিক্ষার্থীদের দিচ্ছি, বয়স্কদের দেওয়া হচ্ছে। সব কাজ কিন্তু একসঙ্গে চলছে। দেশে ডেঙ্গু বেড়েছে, আমাদের তাদেরও চিকিৎসা দিতে হয়েছে একই সময়ে। অর্থাৎ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বসে নেই। মন্ত্রণালয় কিন্তু দরজা বন্ধ করে নাই, প্রতিটা হাসপাতালে লোকজন ছিল।
এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে ২০০৪ সালের যক্ষ্মাতে ৭০ হাজারের অধিক মানুষের মৃত্যু হতো। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নানামুখী পদক্ষেপে এটি নিয়ন্ত্রণে আসছে। এখন যক্ষ্মাতে ৪৮ শতাংশ মৃত্যু কমে আসছে। এখন প্রতি বছর ২৮ হাজার মৃত্যু হয়। এই মৃত্যু কমানোর চেষ্টা করছি।’
যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি সংস্থা এই চিকিৎসা ফ্রিতে দিচ্ছে। ঔষধ ফ্রি দেয়া হচ্ছে। ল্যাবরেটরি সার্ভিস ফ্রি দেয়া হচ্ছে। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এ সেবা দেয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য এই রোগী আরও কমিয়ে আনা।’
বাংলাদেশে যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ৯০ শতাংশই চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যদি যক্ষ্মা নির্মূল করতে চাই এবং যক্ষায় মৃত্যুর হার কমাতে চাই, তাহলে প্রাথমিক সময়ে শনাক্ত সঠিকভাবে করতে হবে এবং চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। প্রাথমিকভাবে যক্ষ্মা শনাক্ত করা সম্ভব হলে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা করা গেলে অধিকাংশ রোগী ভালো হয়ে ওঠে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের প্রায় সব জায়গায় বিনা মূল্যে যক্ষ্মারোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে সরকার। উপজেলা কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে এই চিকিৎসা দেয়া হয়।
