নজর২৪ ডেস্ক- ই-কমার্স সাইট ই-অরেঞ্জের ইস্যুতে আবারও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি মোর্ত্তজা। সোমবার তার মিরপুরের বাসায় আবারও হাজির হন ই-অরেঞ্জে বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়া গ্রাহকেরা।
গ্রাহকদের বরাত দিয়ে একটি সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করে যে মাশরাফি তাদেরকে বলেছেন, ই-অরেঞ্জের কাছে পাওনা টাকা ‘জানের সদকা’ হিসেবে ধরে নিতে। এমন খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কঠোর ভাষায় মাশরাফির সমালোচনা করেছেন অনেকে।
তবে এই ধরনের সংবাদে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, এগুলো অপসাংবাদিকতা ছাড়া আর কিছুই না।
গণমাধ্যমে মাশরাফি বলেন, ‘ইচ্ছা করে কেউ যদি এগুলো করে তাহলে তো আমার কিছু করার নাই। আমি কী করিনি তাদের জন্য বা কোনো চেষ্টা কি করতেসি না? ইয়েলো জার্নালিজম করলে তো কিছু করার নাই। ভুল তথ্য দিয়ে… এই যে কালকে দেখলাম জানের সদকা বলা। এগুলা তো ইয়েলো জার্নালিজম।’
ই-অরেঞ্জের ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের পাশে থাকবেন বলে ফের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘ওদেরকে আমি বলেছি যে আমি যতক্ষণ বেঁচে আছি আমি চেষ্টা করব। আমারও সীমাবদ্ধতা আছে। এখন তো সবাই ওরা জেলে। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে বিষয়টা। আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তো কিছু বলা যাবে না।’
ই-অরেঞ্জের সঙ্গে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে মাশরাফি চুক্তি করলেও সেটা শেষ হয় গত জুলাই মাসে। তারপরও বিতর্কিত এই ই-কমার্স সাইটটির সঙ্গে তার নাম জড়ানোতে বেশ বিরক্ত সাবেক এই পেইসার।
মাশরাফি বলেন, ‘শুরু থেকে বলে আসছি আমি আছি তাদের (গ্রাহক) সঙ্গে। এখনও বলছি। একজন মানুষ তো দুইরকম কথা বলতে পারে না।’
এর আগে ই-অরেঞ্জের প্রতারণার টাকা আদায়ে সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাশরাফি বিন মুর্তজার মিরপুরের বাসায় যান কয়েকজন নারী গ্রাহকেরা। তারা তাদের পাওনা অর্থ আদায়ে মাশরাফির সহযোগিতা চান। এ সময় জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ‘শেষ নিঃশ্বাস অবধি তাদের সঙ্গে আছেন’ বলে জানান।
মাশরাফির বাসায় যাওয়া কয়েকজন গ্রাহক জানান, দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত তাঁরা মাশরাফির বাসায় ছিলেন। এ সময় মাশরাফি তাঁদের কয়েক ধরনের কথা বলেন। প্রথমে মাশরাফি তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তবে তিনি এটাও জানিয়ে দেন যে, তাঁর কোনো দায়বদ্ধতা নেই।
একজন গ্রাহক বলেন, মাশরাফি আমাদের বলেছেন উনি আমাদের সঙ্গে থাকবেন। কিন্তু তিনি এটাও বলেছেন, তাঁর করার তেমন কিছু নেই। তিনি আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যেতে বলেছেন।
এই গ্রাহকদের বক্তব্য অনুযায়ী, মাশরাফি তাঁদের জানান, ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েও যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে বলা হয়েছে, এখানে তাঁর কোনো দায়বদ্ধতা নেই।
গ্রাহকেরা জানান, মাশরাফি একপর্যায়ে রেগে যান এবং বলেন, আমার অ্যাড করার কথা আমি অ্যাড করেছি। আমি কি আপনাদের বলছি ই-অরেঞ্জে টাকা দিতে? কয়েকজন গ্রাহক তখন বলেন, আমরা আপনাকে দেখেই টাকা দিয়েছি। কারণ আপনি তো অভিনেতা নন, আপনি ক্যাপ্টেন, আপনি সাংসদ। সাকিব খান বা অন্য কাউকে দেখলে আমরা টাকা দিতাম না। আপনি জনগণের প্রতিনিধি বলেই আপনাকে দেখে আমরা ই-অরেঞ্জে আস্থা রেখেছি। এর উত্তরে মাশরাফি বলেন, আমার যতটুকু সম্ভব আপনাদের টাকা যেন ফিরে পান সেই চেষ্টা আমি করছি।
