বেতন না পেয়েও মুখ বন্ধ ইভ্যালি কর্মীদের, নৈপথে যে কারণ

নজর২৪ ডেস্ক- ‘মে মাসের স্যালারিটাও (বেতন) তো দেরিতে আসছিল। তাই ভাবলাম দেরি হলেও হয়তো দিয়ে দেবে।’

 

‘আমিও তো এই সব ভাইবাই তিনটা মাস ওয়েট করলাম। আর কত? মনে হয় স্যালারির আশা আর নাই। এই সপ্তাহটা দেইখা আমি চাকরি ছাইড়া দিব।’

 

রাজধানীর সোবহানবাগের প্রধান কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলছিলেন আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির দুই কর্মী। শুধু এই দুজন নয়, প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ শতাধিক কর্মী তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। কিছু কর্মীকে ঈদুল আজহার আগে বেতন দেওয়া হলেও বোনাস পাননি কেউই। বেতন বন্ধ থাকায় সেখান থেকে অনেকেই চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইভ্যালির এক কর্মী জানান, করোনার মধ্যে চাকরি সংকটের কথা ভেবে তিন মাস বেতন বন্ধ থাকার পরও আমরা মুখ খুলছি না। একদিন হয়তো সব টাকা বুঝে পাব এই আশায় আছি।

 

ওই কর্মী জানান, তিন মাসের বেতনের সঙ্গে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকাও আটকে আছে তাঁর। গত এপ্রিলে বাইক অর্ডার করেছিলেন। তারপরও বেতনের দাবিতে তিনি সরব হচ্ছেন না, কারণ অফিস থেকে বলা হচ্ছে, গণমাধ্যমে এসব নিয়ে কথা বললে প্রতিষ্ঠান আরও ঝামেলায় পড়ে যাবে। তখন সবকিছুই হারাতে হবে।

 

বেতন বন্ধ থাকার বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলের। ফোনে তাঁকে পাওয়া যায়নি। খুদেবার্তারও জবাব মেলেনি।

 

প্রতিষ্ঠানটির কোনো কর্মকর্তাই বেতন নিয়ে কথা বলতে চাননি। এমনকি প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে কতজন কর্মী আছেন, সেই তথ্যও জানাতে পারেননি কেউ।

 

ইভ্যালির ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে জনসংযোগ বিভাগের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

 

জনসংযোগ ব্যবস্থাপক মেসবাহ উদ্দিন জানান, কর্মিসংখ্যা বা বেতনের বিষয় মানবসম্পদ বিভাগ জানে, এটা তাঁর জানা নেই। কিন্তু মানবসম্পদ বিভাগও এ ব্যাপারে তথ্য দিতে পারেনি। জনসংযোগ বিভাগে লিখিত আকারে সমস্ত প্রশ্ন পাঠিয়েও উত্তর মেলেনি।

 

ইভ্যালির কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, শুধু বেতন নয়, বিনিয়োগের টাকাও আটকে আছে কর্মীদের। বকেয়া মেটাতে না পেরে অফিস এখন কর্মী ছাঁটাইয়ের পথ খুঁজছে।

 

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর বাজারমূল্যের প্রায় অর্ধেক দামে এসি, টিভি, ফ্রিজ, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি শুরু করে ইভ্যালি। স্বল্প মূল্যে এসব পণ্য সরবরাহের জন্য অগ্রিম টাকা নেওয়ার পাশাপাশি ৪৫ কর্মদিবসের আগাম সময়ও নিত প্রতিষ্ঠানটি।

 

কিন্তু পরে অভিযোগ ওঠে, কিছু ক্রেতাকে পণ্য দিয়ে বাকিদের অপেক্ষায় রাখার কৌশল নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ইভ্যালি। এরপর বিভিন্ন প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইভ্যালির বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে শুরু করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

 

এদিকে আলোচিত সমা‌লো‌চিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিতে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ কর‌বে ব‌লে ঘোষণা দি‌য়ে‌ছিল দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ যমুনা। কিন্তু সম্প্রতি এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে শিল্প গ্রুপটি।

 

এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ইভ্যালির পক্ষে-বিপক্ষে লিখছেন। বিষয়গুলো নজরে এসেছে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেলেরও। এ নিয়ে ইভ্যালির একটি গ্রুপে মঙ্গলবার (০৭ সেপ্টেম্বর) রাতে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

 

সেখানে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, আমি পণ্য ডেলিভারি গতিশীল না করা পর্যন্ত নিজে কিছুই জোর দিয়ে বলতে পারছি না। তবে জোর দিয়ে এইটুকু বলতে পারি, আমরা পিউর বিজনেস দাড় করেছি যেখান থেকেই আমরা পুরাতন সকল অর্ডার ডেলিভারি করে দিব। বিনিয়োগ পেলে ডেলিভারি ত্বরান্বিত হবে।

 

তিনি বলেন, মানুষ থেকে ১০ টাকা নিয়ে ২০ টাকা ফেরত দেওয়ার কোন স্কিম করি নাই। ইভ্যালি পণ্য কিনে উৎপাদকের থেকে। কিছু পণ্য লাভ এবং কিছু পণ্য লস হয়তো হয়। কিন্ত বর্তমানে ইভ্যালির ডিপ ডিসকাউন্ট থেকে সরে এসেছে।

 

‘এছাড়াও পণ্য ডেলিভারির আগে আমরা কোন টাকা এখন আর পাই না। সুতরাং ভ্রান্ত ধারণা প্রচার করে ইভ্যালি থামানোর সুযোগ নাই। পাশে থাকুন’ যোগ করেন ইভ্যালির এমডি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *