ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা ব্রীজের উপরে সাঁকো দিয়ে পারাপার, বিচ্ছিন্ন ৫ গ্রামের মানুষ

মো:নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি: ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়নের কানাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খালের উপরের ব্রীজ ভেঙে যাওয়ায় পাঁচ গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে শতশত মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

 

বিকল্প কোনো পথ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা ব্রীজের উপরে সুপারি গাছের সাঁকো দিয়ে লোকজন পারাপার হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা। ব্রীজ সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসী একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

এ কারণে কানাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিনাপানি কেবিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ কানাইপুর, শিবপুর, দক্ষিণ কৈখালী, দক্ষিণ চেঁচরী ও বিনাপানি গ্রামের শতশত মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে ৫ গ্রামের মানুষ।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সেলিম তালুকদার জানান, এলজিইডির অর্থায়নে বীজ নির্মাণ করা হয়েছিল। কানাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবনের কাজের মালামাল নেয়ার সময় ব্রীজটি ভেঙে খালে পড়ে যায়। ঠিকাদার ব্রীজটি সংস্কার করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা করেনি।

 

এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর স্বাক্ষর নিয়ে উপজেলা এলজিইডি অফিসে অভিযোগ করেছি, কোনো ফল পাইনি।শৌলজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাহমুদ হোসেন রিপন জানান, ওই ব্রীজটি সংস্কারের জন্য এলজিইডির প্রকৌশলীকে বলেছি তারা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নেওয়ার কথা বলেছেন।

 

উপজেলা প্রকৌশলী (এজিইডি) সাদ জাগলুল ফারুক জানান, আমি এখানে যোগদানের আগে ব্রীজটি ভেঙেছে। আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখবো, যদি ঠিকাদার ভেঙে থাকেন, অবশ্যই তিনি মেরামতের ব্যবস্থা করে দেবেন। তবে ব্রীজটি অন্য প্রকল্প থেকে করার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুফল চন্দ্র গোলদার জানান, স্কুলের কাজের সময় ব্রীজটি ভেঙে যায়। পরে আমি তাদের ডেকেছিলাম। ইঞ্জিনিয়ারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, ঠিকাদারের খরচে মেরামত করার জন্য। ঠিকাদার যদি সেটি না করে থাকে, তাহলে তার জামানত আটকে দেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *