নজর২৪ ডেস্ক- আলোচিত ইকমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সামাজিক যোগাযোগ প্রধান মৃধা মো. সাইফুল ইসলাম তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বিষয়টি সবাইকে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে ফোন করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি। পরে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলে জবাবে মৃধা সাইফুল বলেন, ইভ্যালি থেকে আমি ইস্তফা নিয়েছি। আর, ‘ইভ্যালি নিয়ে সবাই যা জানে আমিও তাই জানি। এর বেশি কিছু বলার নেই আমার।’
গত সোমবার তিনি ইভ্যালি ছেড়েছেন বলে ফেসবুকে জানান। সেখানে তিনি লেখেন, আজব প্রকৃতির কোম্পানি ইভ্যালি, এখনও তেমনই আছে, ভবিষ্যতেও হয়তো তেমনই থাকবে।
মৃধা মো. সাইফুল ইসলাম এর আগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান খাসফুড ও দারাজে কাজ করেছেন। তার আগে তিনি চাকরি খোঁজার ওয়েবসাইট বিডিজবসেও কাজ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেশের ই-কমার্স খাতে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি ও এই খাতের কর্মীদের দক্ষতাবৃদ্ধি নিয়ে সরব থাকেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমে পড়াশোনা করেছেন মৃধা মো. সাইফুল ইসলাম।
এর আগে ইভ্যালির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) কর্মকর্তা আরিফ আর হোসাইনও চাকরি ছেড়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমের কাছে জানান। সোমবার (৩০ আগস্ট) রাতে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ইভ্যালির বর্তমান ইস্যুতে ভুক্তভোগী জনসাধারণের জন্য একজন সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে তার ব্যক্তিগত মতামত জানতে চাইলে তিনি ইভ্যালির সাথে আর নেই বলে জানান। তিনি বলেন, যেহেতু এই মুহুর্তে আমি ইভ্যালিতে নেই, তাই ইভ্যালি নিয়ে করা মন্তব্য ভুল হতে পারে।
২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করে ই-কমার্স প্লাটফর্ম ইভ্যালি। লোভনীয় ডিসকাউন্ট কিংবা ক্যাশ ব্যাকের অফার দিয়ে দ্রুতই গ্রাহকদের কাছে পরিচিতি পেয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সময়মত পণ্য না দেওয়াসহ নানা অভিযোগে বর্তমানে সমালোচনার শীর্ষে অবস্থান করছে ইভ্যালি।
এদিকে আলোচিত সমালোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিতে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ যমুনা। কিন্তু সম্প্রতি এ সিদ্ধান্ত থেকে অনেকটাই সরে আসে শিল্প গ্রুপটি। এছাড়া ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও এমডির নামে পরিচালিত সব অ্যাকাউন্টের তথ্য ও ৫০ লাখ বা তার বেশি টাকা লেনদেনের চেক ও রশিদের কপি চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এমন পরিস্থিতিতে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সহযোগিতা চেয়ে মঙ্গলবার রাতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল।
