রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে নিখোঁজ থাকার ২ দিন পর বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সালমা খাতুন (২৮) নামের এক প্রতিবন্ধী নারীর ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
নিহত সালমা খাতুন শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের বেপারী পাড়ার জালাল বেপারীর মেয়ে, সে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী (বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী) ছিল।
জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের বেপারী পাড়ার জালাল বেপারীর মেয়ে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী (বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী) মেয়ে সালমা খাতুন গত ৩০ আগষ্ট রাত ৮টা থেকে নিখোঁজ থাকে।
পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে বুধবার সকালে সালমা খাতুনের পিতা জালাল বেপারী শাহজাদপুর থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।
নিহত সালমা খাতুনের পিতা জালাল বেপারী জানান, বিকাল ৩টায় স্থানীয় একজন জেলে পার্শ্ববর্তী ধউকালাই বিলের পানিতে একটি নারীর লাশ ভাসতে দেখে আমাদের খবর দেন। পরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরনের কাপড় দেখে বুঝতে পারি এটা আমার মেয়ে সালমার লাশ।
তিনি আরো জানান, লাশের শরীরের নিচের অংশে কাপড় ছিলনা এবং দুই হাত তারই ব্যবহৃত ওড়নো দিয়ে বাধা ছিল।
শাহজাদপুর থানার উপ-পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, নিখোঁজের বিষয়টি থানা অবগত হওয়ার পর আমি তার গ্রামে গিয়ে তদন্ত করেছি। পরে বিকাল ৪টায় আমাদের কাছে খবর আসে যে, পোতাজিয়া ইউনিয়নের ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন ধউকালাই বিলের পানিতে একটি নারীর লাশ ভাসছে।
পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিলের বন্যার পানি থেকে ভাসমান লাশটি উদ্ধার করলে জালাল বেপারী লাশটি তার মেয়ে সালমার বলে সনাক্ত করেন। সন্ধার পরে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান জানান, সালমা খাতুনের লাশ উদ্ধারের বিষয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ধারনা করা হচ্ছে ধর্ষণের পর সালমা খাতুনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
লাশটি বৃহস্পতিবার ময়না তদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
