যুদ্ধ করে চলছে অসহায় রেনু বেগমের জীবন, সাহায্য চায় পরিবারটি

মো: নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি: অসহায় মানুষের জীবনের গল্পগুলো পৃথিবীর সব মানুষের থেকে কষ্টদায়ক হয়ে থাকে। তারা সব জায়গায় অসহায়, তাদের এক একটি দিন যায় অনাহারে দুঃখে কষ্টে।

 

তেমনই এক অসহায় ঝালকাঠির রেনু বেগম (৪৭)। বৃদ্ধ স্বামী আজিজ মাঝী এবং অসুস্থ সন্তান সোহাগ মাঝী (২৫) কে নিয়ে বেশ মানবেতর জীবনযাপন তার। পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রী কলেজের পেছনে ছোট্ট একটি খুপড়ি ঘরে চা/পান বিক্রি করেন রেনু বেগম।

 

দোকানের কাছেই কায়েদ সড়কে তাদের বাড়ি, বাড়িতে থাকেন রেনুর দুই পুত্র সন্তাান। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় বৃদ্ধ স্বামীকে নিয়ে দোকানেই থাকেন, দোকানেই ঘুমান রেনু বেগম। রেনু বেগমের বড় সন্তান খালেক মাঝী (২৯) এখনো বেকার। সংসারের অভাব দেখে বছর তিনেক আগে দুটি শিশু সন্তান রেখে চলে যায় খালেকের স্ত্রী।

 

রেনুর ছোট ছেলে সোহাগ মাঝির শরীরে নানান রোগে বাসাবেঁধেছে। গ্যাষ্ট্রিক আলসারে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে দুই বারের ব্রেইন ষ্ট্রোক করা অসুস্থ স্বামীর আয়ের সবটুকু অর্থ ব্যায় হয়ে যায়। গত ৮ বছর আগে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে ছোট ছেলে সোহাগের পেটের ভিতর কৃত্রিম পাকস্থলী স্থাপন করা হয়।

 

কিন্তু তাতেও সুস্থ হতে পারেনি সোহাগ। দিনের পর দিন অসুস্থতা তাকে ছাড়ছেনা। ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় সোহাগ বর্তমানে অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন। বর্তমানে মানসিক সুস্থ্যতার জন্য নিয়মিত ইনজেকশন নিয়ে চলতে হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বেচা বিক্রি নেই রেনুর খুপড়ি দোকানে। ছোট ছেলের ইনজেকশন কিনলে ঘরে ভাত জোটেনা, আর চাল/ডাল কিনলে ইনজেকশন জোটেনা। ঐদিকে প্রতি মাসে খুপড়ি দোকানের ভাড়া গুনতে হয় ৮শ টাকা।

 

দু মুঠো ভাতের জন্য পার্শবর্তী মানুষের কাছে যেতে হয়। খেয়ে পরে বেচে থাকার জন্য কতো যে কষ্ট করে শুধু তারাই জানে। অসহায় মানুষদের নিয়ে ভাবার অনেক মানবিক লোক আছে এই শহরে। তাদের দিকেই পথ চেয়ে দিন পার করছেন রেনু বেগম। কান্নাস্বরে রেনুবেগম এই প্রতিবেদককে বলেন, পৌরসভায় গিয়েও কোনো লাভ হয়নি, এভাবে চলতে থাকলে তিনিও ছোটো ছেলের মত পাগল হয়ে যাবেন। এ অবস্থায় অসহায় রেনু বেগম প্রধানমন্ত্রী ও দেশের বিত্তবানদের সাহায্য চাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *