নজর২৪, ঢাকা- ‘ব্যবসায়িক অবস্থান থেকে বর্তমানে ইভ্যালির সময় ভালো যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতির উত্তরণে কিছু সময়ের প্রয়োজন। বর্তমানে যারা সরবরাহকারী, তারা যদি আশ্বস্ত হন, তাহলে ব্যবসার পরিধি বাড়বে। একই সঙ্গে গ্রাহকরা যদি পণ্যের ব্যাপারে আশ্বস্ত হন তাহলে অর্ডার বেশি করে করবেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগও বাড়বে।’
সম্প্রতি গণমাধ্যমে এমনটাই জানিয়েছিলেন ইভ্যালির নির্বাহী পরিচালক (স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন) এহসান সারওয়ার চৌধুরী।
এরমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের কর্মীদের জোরপূর্বক চাকরি ছাড়তে বাধ্য করার। ইভ্যালির সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের কয়েকজন প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি তিন মাস ধরে পেছনের সারির কর্মীদের বেতন দেয়নি। যমুনা গ্রুপ ইভ্যালিতে বিনিয়োগ করবে না—এমন খবর বের হওয়ার পর কর্মীদের ছাঁটাই করার প্রবণতা চলছে।
ইভ্যালির এক কর্মী গণমাধ্যমকে জানান, শেষ খবর (আপডেট) পাওয়া পর্যন্ত কম্পানিটিতে এক হাজার ৮০০ জন কর্মী কাজ করতেন। তবে বর্তমানে কতজন কাজ করছেন সেটি তাঁর জানা নেই। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইভ্যালি চায় তাদের কর্মীরা নিজ থেকেই পদত্যাগপত্র দিক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইভ্যালির এক কর্মকর্তা বলেন, গত দুই মাসের বেতন তিনি পাননি। বিনা বেতনে কাজ করছেন। এ মাসেরটা না পেলে তিন মাসের বেতন বকেয়া হবে। কম্পানির বেতন দেওয়ার মতো সামর্থ্য না থাকায় এর মধ্যেই কর্মী ছাঁটাই শুরু করছে। এ ব্যাপারে তিনি শঙ্কিত।
কোম্পানিটির কলসেন্টারে কাজ করা কয়েকজন কর্মী বলেছেন, তাদের বলা হয়েছে চলতি আগস্ট ও আগামী সেপ্টেম্বর মাসে তাদের বেতন হবে না। যার টাকার দরকার তাকে চাকরি খুঁজে নিতে বলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ কর্মীর মনোবল ভেঙে পড়েছে।
এদিকে কর্মীদের চাকরি খুঁজতে বলার কথা স্বীকার করেছেন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলও। তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন পরিচালন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে কিছু কর্মীদের অন্যত্র চাকরি খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত সংবাদের সমালোচনাও করেছেন তিনি। সেইসঙ্গে সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে সবার দোয়া চান ইভ্যালির এমডি।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, অথচ, সত্য নিউজ এমন হতে পারতো, ‘পরিচালন ব্যায় কমানোর লক্ষ্যে কিছু কর্মীদের অন্যত্র চাকরি খুজার পরামর্শ।” আমরা গ্রাহক সাপ্লায়ার সহ সবার কাছে সময় চেয়েছি যেন বিনিয়োগ সংগ্রহ করে ইভ্যালির পূর্ণ শক্তি ফেরত আনতে পারি। এই সময় বেতন পেতে বিলম্ব হতে পারে সেই শুরুতেই কর্মীদের বলা ছিল।’
মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে। দোয়া রাখবেন।’
