মিজানুর রহমান, শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরে মুক্তিযুদ্ধকালে নিহত আইজ উদ্দিন মোল্লাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানোর প্রতিবাদ, তার মুক্তিযোদ্ধা পদবী বাতিল ও তার দুই ছেলের বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। ২৯ আগস্ট রোববার দুপুরে শহরের শহীদ বুলবুল সড়কস্থ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কামারিয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মতিন। এ সময় তিনি বলেন, শেরপুর সদর উপজেলার আন্ধারিয়া বানিয়াপাড়া গ্রামে ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক সূর্যদী গণহত্যা চালানোর সময় আইজউদ্দিন মোল্লা তার বাডির পিছন দিয়ে পালানোর সময় আখ খেতে নিহত হন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না।
পরবর্তীতে তার ছেলেরা বড় হয়ে ভুয়া তথ্য দিয়ে তার মুক্তিযুদ্ধের সনদ সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প দেখিয়ে সরকারের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। তারা শুধু ভুয়া সনদ দেখিয়ে সুবিধাই নেয়নি, বরং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছেন। বক্তারা তার দুই ছেলে প্রজন্ম-৭১ এর সভাপতি আজিজুর রহমান ও পুলিশ পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানের বিচার দাবি করেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে মুঠোফোনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিক এমপি। তিনি বলেন, আইজ উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে আখ খেতে গিয়েছিলেন। তখন সূর্যদীতে পাক হানাদার বাহিনী ঢুকে এলোপাথারী গুলি শুরু করলে সেই গুলিতে নিহত হন আইজউদ্দিন। পরে তার ছেলেরা ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে তাকে মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নিয়ে এসেছে। এতে সেদিন যারা প্রকৃতই যুদ্ধ করেছিল, তারা বিব্রত হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল হাসেম, তালাপতুফ হোসেন মঞ্জু, মো. মমতাজ উদ্দিন, মো. তালেব হোসেন, মো. চাঁন মিয়া, মো. আব্দুল খালেকসহ জেলায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে আইজউদ্দিনের ছেলে প্রজন্ম ৭১-এর সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, গ্রামের জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে আমারই বড় বোন আমাদের পুরো সম্পত্তি গ্রাস করার জন্য এসব অপতৎপরতা শুরু করেছে। আর আমি রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ায় আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষসহ একটি মহল আমাকে ও আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবা সম্পকে মিথ্যা বানোয়াট অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।
আইজউদ্দিনের আরেক ছেলে পুলিশ পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার বড় বোনের বিয়ে হয়েছিল যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি হওয়া জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের আত্মীয়ের কাছে। পরে আমার বোন ও বোনজামাইকে সেখান থেকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে এসে আমাদের জায়গায় থাকতে দেই। এখন আমার বোন ও বোনজামাই আমাদের পুরো সম্পত্তি দখল করে নিতেই এলাকার প্রভাবশালীদের মদদে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।
