অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোর্টার- টাঙ্গাইলে যমুনা, ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ্যই অবনতি হচ্ছে। বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করায় তলিয়ে যাচ্ছে একের পর এক নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। ক্ষতি হচ্ছে ফসলের। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন।
তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় যমুনা নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার, ধলেশ্বরী নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার আর ঝিনাই নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
যমুনাসহ সকল নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়াও পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী, দেলদুয়ার, নাগরপুর, বাসাইল, মির্জাপুর আর ভূঞাপুরের কয়েক হাজার মানুষ বলেও জানান তিনি। এতে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন তারা। দেখা দিয়েছে পানিবন্দী পরিবারগুলোতে বিশুদ্ধ পানির সংকট।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের কচুয়া, চকগোপাল, মালতিপাড়া, সাতানী হুগড়া ও কাশিনগর, মাহমুদনগর ইউনিয়নে ডুবাই, বেথর, খারজানা, মাখরখৈাল ও কাকুয়া ইউনিয়নে রাঙ্গাচুরা, পৌলি, কালিকৈটিল, মইসা ও ওমরপুর প্লাবিত হয়েছে।
অপরদিকে জেলার বাসাইল-নাটিয়াপাড়া সড়কের বিলপাড়া এলাকায় রাস্তা ভেঙে গেছে। এতে ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে অন্তত বাসাইল উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের ১০ গ্রামের নিন্মাঞ্চলন প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও মাছের ঘের। শনিবার সকালে বাসাইল-নাটিয়াপাড়া সড়কের বাসাইল দক্ষিণ পাড়া এলাকায় ভেঙ্গে যায়।
এ বিষয়ে কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, আমার ইউনিয়ন যমুনা নদীর তীরবর্তী হওয়া ইউনিয়নটি প্রতি বছরই যুমনার ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে। এ বছরও হাট বাজার থেকে শুরু করে শতশত ঘরবাড়ী ভেঙ্গে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নের প্রায় গ্রামেই পানি প্রবেশ করেছে। এতে গ্রামের শতশত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। দূর্যোগের এই মুহুর্তে এ সকল গ্রামবাসির পাশে থাকার জন্য সকল মহলের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
