চন্দ্রিমায় জিয়ার মরদেহ নেই : প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে যা বললেন ডা. জাফরুল্লাহ

নজর২৪ ডেস্ক- চন্দ্রিমা উদ্যানের সমাধিস্থলে জিয়াউর রহমানের মরদেহ নেই-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তাকে জাদুকর বলেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্ট্রি জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

 

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে গণসংহতি আন্দোলনের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন সরকারের কট্টর সমালোচক চীনপন্থি সাবেক এই বাম নেতা।

 

আগের দিন আওয়ামী লীগের এক আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার কবরে গিয়ে যে মারামারি করল বিএনপি, তারা জানে না যে সেখানে জিয়ার কবর নাই, জিয়া নাই ওখানে, জিয়ার লাশ নাই? তারা তো ভালোই জানে। তাহলে এত নাটক করে কেন? খালেদা জিয়াও ভালোভাবে জানে।’

 

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ জাদুকর শেখ হাসিনা। কী অপূর্ব পরিকল্পনায় তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনের রাতে সবকিছু উল্টে দিলেন। ঠিক একইভাবে এখন উনি বলতে শুরু করেছেন চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের শবদেহ নেই।’

 

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি হঠাৎ এসব তথ্য কেন আনছেন? এটা অনেকাংশে মস্তিষ্ক বিকৃতির লক্ষণ।’

‘মানসিকভাবে আপনার উপর এতো চাপ আপনার বিশ্রাম এবং চিকিৎসা প্রয়োজন। অনুগ্রহ করে জিয়াউর রহমান এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে টানাটানি করিয়েন না। তাদেরকে শান্তিতে ঘুমাতে দেন।’

 

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ইতিহাস ভুলে গেছেন। যারা জিয়াউর রহমানের লাশ রিসিভ করেছিল। সেই পুলিশ মিলিটারিরা এখনো বেঁচে আছে। যিনি ময়নাতদন্ত করেছিলেন সেই ডা. তোফায়েল এখনো বেঁচে আছেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার (জিয়ার) লাশ আনার পর দেশের সবচেয়ে বড় জনসমাগম হয়েছিল।’

 

এসময় জাফরুল্লাহ আরও বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। কারণ হঠাৎ তার জ্ঞান চক্ষু খুলে গেছে। তিনি সাহসের সঙ্গে, সততার সঙ্গে আজকে নিজের দলের দিকে তাকাতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেছিলেন বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আক্রান্ত হলে তিনি তার দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ফোন করেছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী আপনি তো বললেন না, তিনি জিয়াউর রহমানকে কেন ফোন করলেন না, তিনি জেনারেল ওসমানীকে কেন ফোন করেননি? খালেদ মোশাররফকে কেন ফোন করেননি? সবচেয়ে বড় কথা যারা তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে স্বাধীনতা এনেছিল তিনি তাদের কেন ফোন করেননি? তিনি কি বিব্রতবোধ করছিলেন? স্বাধীনতার পরে সাড়ে তিন বছরেও তিনি মুজিবনগর পরিদর্শন করেননি। তাই জীবনের শেষ মুহূর্তে তার মনে একটা অনুকম্পা হচ্ছিল।’

 

বঙ্গবন্ধু হত্যার জন্য পাকিস্তান দায়ী নয় উল্লেখ করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘দায়ী ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী। তার প্রমাণ, ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী কয়েকদিন আগে বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন—এটা (হত্যার পরিকল্পনা) হচ্ছে। তার মানে তারা জানত, তারা অর্গানাইজড করেছে। তখন তো পাকিস্তানিদের এখানে আসার কোনো সুযোগই ছিল না। ভারত বুঝতে পারে যে, বঙ্গবন্ধুকে সরাতে হবে।’

 

‘তার জন্য শুরু হয় রক্ষীবাহিনীর অত্যাচার। রক্ষীবাহিনী কারণে পাকিস্তান থেকে আগত সৈন্যরা, মুক্তিযুদ্ধের অংশগ্রহণকারী সৈন্যরা সবাই বঙ্গবন্ধুর ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। সেদিন বঙ্গবন্ধু পাশে যারা দাঁড়াতে পারতেন, তাদের কেউকে তিনি ডাকেননি’ যোগ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *