নজর২৪ ডেস্ক- জাপানি মায়ের দুই শিশুর বিষয়ে সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে মা ও বাবা। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে বাচ্চাদের সাথে দেখে করে এ তথ্য জানিয়েছেন তারা।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এরিকো বলেন, ‘সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য সমঝোতায় রাজি হয়েছি। বাচ্চাদের দেখে আসলাম তাদের হাস্যোজ্জ্বল দেখেছি। নিজ হাতে তাদের গোসল করিয়েছি। আমি সত্যিই গর্বিত এখানকার যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছেন আমার সন্তানদের প্রতি তারা অনেক আন্তরিক।’
ভিকটিম সেন্টারের পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যদিও এটি কোনো পাঁচ তারকা হোটেল নয়, তারপরও পরিবেশ সুন্দর পরিচ্ছন্ন এবং নিরাপদ।’
এ সময় এরিকোর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘যদিও বলা হয়েছে একটি ফ্ল্যাটকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা আসলে সত্য নয়। ফ্ল্যাটের বিষয়টি একটি বিষয় ছিল, তবে সেটি একমাত্র কারণ ছিল না। তাদের মধ্যে বাচ্চাদের নিয়ে যে সমস্যা হয়েছে তা নিয়ে জাপানি আদালতে একটি মামলা হয়েছে। সেই মামলায় এরিকো বিজয়ী হয়েছেন। জাপানি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যেন এরিকোর কাছে সন্তানদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তার স্বামী সেটি না করে বাংলাদেশে চলে এসেছেন।’
তিনি বলেন, ‘এটি যেহেতু পারিবারিক বিষয়, সেখানে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় জড়িত। এ জন্য আমরা চেষ্টা করছি, আইনি প্রক্রিয়ার বাইরেও সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করার। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারব।’
সমঝোতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে কিন্তু এখনো বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি, তারা এখনো স্বামী-স্ত্রী রয়েছেন। যদিও এরিকো বিবাহবিচ্ছেদ দায়ের করেছেন কিন্তু সেই মর্মে সেটি এখনও কার্যকর হয়নি। এখন নানা ধরনের সমঝোতা করার সুযোগ রয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, যতই সমস্যা থাকুক না কেন বাচ্চাদের ভবিষ্যতের জন্য উভয় পক্ষকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বাচ্চাদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে আমরা একটি সমঝোতায় যাওয়ার চেষ্টা করব। মামলার শুনানি আগামী ৩১ তারিখের আগে পরস্পরকে সম্মান জানিয়ে একটি সমঝোতায় আসার চেষ্টা করছি আমরা। এ সমঝোতার বিষয়ে উভয়পক্ষ ও আইনজীবীরা প্রাথমিকভাবে একমত হয়েছেন।’
দুই শিশুর বাবা ইমরান শরীফ জানান, সেন্টারে থাকার ফলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে দুই শিশু। সমঝোতা করতে তিনি আগেই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্ত মায়ের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। তবে সন্তানদের কল্যাণের জন্য যা করতে হবে তাই করবেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে, গত ২৩ আগস্ট দুই শিশু আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকবে বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। নাকানো এরিকোর রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এমন সিদ্ধান্ত জানান। হাইকোর্টের আদেশে আরও বলা হয়েছিলো, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তাদেরকে দেখাশোনা করবে বাবা। আর বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দেখাশোনা করতে পারবে তাদের মা।
