ফরিদপুরে ট্রলারডুবি: ১৬ ঘণ্টায়ও সন্ধান মেলেনি ২ স্কুল শিক্ষকের

নজর২৪, ফরিদপুর: পদ্মায় ভ্রমণে গিয়ে ফরিদপুর সদরের তাইজউদ্দীন মুন্সীর ডাঙ্গী এলাকায় ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ হওয়া দুই শিক্ষককে ১৬ ঘন্টায়ও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

 

বুধবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬ টায় দিকে নিখোঁজ হলেও আজ বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০ টা পর্যন্ত তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তানসুভাষ বাড়ৈ।

 

নিখোঁজ ওই দুই শিক্ষক হলেন ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন (৪১) ও সারদা সুন্দরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারি শিক্ষক আজমল হোসেন শেখ (৪৪)। এদের মধ্যে আজমল হোসেনের বাড়ি সদর উপজেলার খলিলপুরে। তবে তিনি জেলা শহরের গোয়ালচামটে ভাড়া থাকেন। তার এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে। আর আলমগীর হোসেনের বাড়ি খলিল মন্ডলের হাট এলাকায়। তিনি ঝিলটুলি পুরাতন পাসপোর্ট অফিস এলাকায় থাকেন। তার দুটি মেয়ে রয়েছে।

 

এ ট্রলার দুর্ঘটনায় আহত ফরিদপুরের চর মাধবদিয়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ক সহকারী শিক্ষক প্রদীপ কুমার বিশ্বাস (৪২) ও সারদা সুন্দরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবসায়ী শিক্ষা শাখার শিক্ষক বলাই কুমার দাস (৪১)কে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুই শিক্ষক প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ট্রলার ডুবি থেকে বেঁচে যাওয়া শিক্ষক রেজাউল করিম জানান, তিনি নিজেসহ শহরের শোভারামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সালাউদ্দিন, সারদা সুন্দরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইদুর প্রামানিক, আইয়ুব, জাহাঙ্গীর, আবুল হাসান, সাইফুল ইসলাম, আজমল হোসেন, শোভারামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাঈদ, ঈশান ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক শাহিন, সাদীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুশান্ত, বলাই, ফরিদপুর হাই স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক আলমগীর হোসেন ও আজাদ বিকেলে ভ্রমণে বের হন।

 

তিনি আরও জানান, স্রোতের কারণে হঠাৎ করে ট্রলারটি উল্টে যায়। আর কিছু মনে নেই। পরে জ্ঞান ফিরে দেখেন নদীর পাড়ে লোকজন ঘিরে ধরে আছে।

 

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আসলাম শেখ জানান, আমরা সিএন্ডবি ঘাটে জাহাজে রং করছিলাম। হঠাৎ করে চেচামেচি শুনে এগিয়ে এসে দেখি ট্রলার ডুবে গেছে। আমরা সকলে মিলে কয়েকজনকে উদ্ধার করি।

 

নাজমুল হোসেন নামের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমি নদীতে নৌকা চালাচ্ছিলাম। ঘটনা ঘটার পর খোজাখুজি শুরু করি। দূর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকে দুই জনকে উদ্ধার করি।

 

ফরিদপুর ২নং ফাড়ির ইনচার্জ মো. রাকিব হোসেন জানান, দূর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কাজে অংশ নেই। ১৪ জন শিক্ষক এবং মাঝিসহ ট্রলার ডুবে যায়। ১৩ জনকে উদ্ধার করতে পারলেও দুই জন শিক্ষককে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

 

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা সুভাষ বাড়ৈ জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত তারা ট্রলার নিয়ে খোঁজ চালান। তিনি বলেন, রাতের আঁধার এবং বৈরি আবহাওয়ার পাঁশাপাশি নদীতে প্রচুর স্রোত রয়েছে। এজন্য তাদের বেশ বেগ পেতে হয়। আসলে কি ঘটেছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না।রাত ১২ টা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চালানো হয়। তিনি আরও জানান, ফরিদপুরে তাদের কোন ডুবুরি নেই। পাটুরিয়া ঘাট হতে ডুবুরি আনা হলেও রাতের বেলায় উদ্ধার কাজ চালানো সম্ভব হয়নি। ডুবুরি দল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।

 

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, নিখোঁজ দুই শিক্ষককে উদ্ধারে নৌ-পুলিশ, জেলা পুলিশ ও দমকল বাহিনীর কয়েকটি দল কাজ করছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ডুবুরি দল নতুন করে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।

 

প্রসঙ্গত, ফরিদপুর শহর থেকে বিকেল ৩ টায় ট্রলার ভাড়া করে পদ্মায় ভ্রমণে যান বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৪ জন শিক্ষক। ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তীব্র স্রোতের মুখে ৩ নম্বর পন্টুনের সঙ্গে সংঘর্ষে শিক্ষকদের বহন করা ট্রলারটি ডুবে যায়। এ সময় ১২ জন শিক্ষক সাঁতারে পাড়ে উঠতে পারলেও আজমল ও আলমগীর নামের দুই শিক্ষক নিখোঁজ রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *