নজর২৪, ঢাকা- “অগ্রিম টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘসময়েও যেসব গ্রাহককে পণ্য না দিয়ে রিফান্ড চেক দিয়েছিল ইভ্যালি, তাদের অনেকের মোবাইল ফোনে কল করে চেকগুলো ছিঁড়ে ফেলে ছেঁড়ার ভিডিও পাঠাতে বলছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তারা।
যারা চেক ছিঁড়ে ভিডিও পাঠাবে, তাদের ব্যাংক একাউন্টে রিফান্ডের টাকা ডিপোজিট করা হবে বলে জানায় ইভ্যালি। তবে যেসব কাস্টমারকে ইভ্যালি রিফান্ড চেক দিয়েছে, তাদের চেকগুলো ক্যাশ করা যাচ্ছে না” এমন সংবাদ সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।
যা নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল।
শুক্রবার (১৩ আগস্ট) বিকালে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “এই চেকের টাকা সেইদিন ই আমরা দিয়ে দিয়েছি। মিডল্যান্ড ব্যাংক আমাদের একাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। যাদের চেক ছিড়তে বলেছে সবাইকে অন্য ব্যাংক থেকে টাকা দিয়েছি ট্রান্সফার করে দিয়েছি। এরপর এমন ছেড়া লাগবে না এমন ইন্সট্রাকশনও টিমকে দিয়েছি।
দয়া করে আমাকে কেউ পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করতে বইলেন না। দেশে পরিবর্তন আসবেই। আমরাই এই দেশ পরিবর্তন করব। করতে না পারলে এই রকম নিউজ মেনে নিব।”
আরও পড়ুন-
ইভ্যালির আবেদন নাকচ, ৭ দিনের মধ্যে সম্পদ-দায়ের তথ্য চাইলো সরকার
নজর২৪ ডেস্ক- সম্পদ ও দায় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার জন্য আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিকে চিঠি পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার এ চিঠি দেওয়া হয়।
চিঠিতে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ইভ্যালির সম্পদ ও দায় বিবরণী আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ওই সময়সীমায় গ্রাহকের কাছে তাদের মোট দেনার পরিমাণ ও পাওনাদার গ্রাহক সংখ্যা জানাতেও বলা হয়েছে ২৬ আগস্টের মধ্যে। পাশাপাশি মার্চেন্টদের কাছে দেনার পরিমাণ ২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
এর আগে, ১৯ জুলাই এসব তথ্য জানাতে ইভ্যালিকে চিঠি দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। জবাবে দায়-দেনার তথ্য ও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে ছয় মাস সময় চেয়ে গত ১ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির উত্তর দেয় ইভ্যালি।
বুধবার (১১ আগস্ট) আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে ইভ্যালির ছয় মাস সময়ের আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়। বৈঠকে ইভ্যালিকে মোট তিন ধাপে আগের জানতে চাওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে ৩ সপ্তাহ সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্তের বিষয়টিই আজ বৃহস্পতিবার চিঠির মাধ্যমে ইভ্যালিকে জানাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
ইভ্যালিকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানতে চেয়েছিল, গত ১৪ মার্চ পর্যন্ত গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে মোট ৪০৭ কোটি টাকা দায়ের বিপরীতে ইভ্যালির কাছে মাত্র ৬৫ কোটি টাকার চলতি সম্পদ কেন? বাকি টাকা ইভ্যালির কাছে থাকলে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে, না থাকলে পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে হবে।
এছাড়া ১৫ জুলাই পর্যন্ত গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে দায় এবং তা পরিশোধের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ব্যবসা শুরুর পর গ্রাহকদের কাছ থেকে ইভ্যালি কত টাকা নিয়েছে, মার্চেন্টদের কত টাকা পরিশোধ করেছে এবং প্রশাসনিক ও অন্যান্য খাতে কত টাকা ব্যয় করেছে, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানাতে বলা হয় নোটিশে।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেলে চিঠিবাহক ইভ্যালি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে কাউকে খুঁজে পাননি। কোম্পানিটির কার্যালয় পরিপূর্ণভাবে বন্ধ।
জানতে চাইলে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এখনো চিঠি পাইনি।’ অফিস বন্ধ ও খোলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা আপাতত হোম অফিস করছি। পরিস্থিতি বুঝে খোলা হবে।’
আরও পড়ুন-
চাপ প্রয়োগ করলেও অর্ডার দ্রুত দেওয়ার কোনো সুযোগ নাই : ইভ্যালি এমডি
