ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন পরীমণি

নজর২৪ ডেস্ক- ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনি। তবে এই নায়িকার গ্রামে তার সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক খবর পাওয়া যায়নি। তুখোড় মেধাবী হওয়ায় ‘ডানাকাটা পরী’কে নিয়ে এখনো গর্ববোধ করেন তার স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা।

 

খুব ছোট বেলায় মাকে হারানো পরীমণি বড় হয়েছেন নানা বাড়িতে। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার সিংহখালী গ্রামের নানা বাড়িতেই। এই সিংহখালী গ্রামকেই পরীমণির নিজের গ্রাম ধরে নেওয়া হয়। তার দাদার বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলায়। সেখানে কখনোই থাকেননি পরীমণি।  ফলে পরীমনির স্বজন বলতে এই নানাবাড়িই।

 

জানা যায়, নব্বই এর দশকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ভগিরথপুর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন মনিরুল ইসলাম নামের এক কনস্টেবল। তার বাড়ি ছিলো নড়াইল জেলায়। দেখতে সুদর্শন হওয়ায় তিনি সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেলতে পারতেন।

 

এরই ধারাবাহিকতায় ফাঁড়ির পার্শ্ববর্তী সিংখালী গ্রামের বাসিন্দা সামছুল হক গাজীর বড় মেয়ে সালমা সুলতানার সাথে মনিরুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর এই সুলতানা-মনিরুল দম্পতির পরিবারের জন্ম হয় শামছুন্নাহার স্মৃতির। যিনি এখন পরীমনি নামে পরিচিত।

 

ছোটবেলায় মা মারা যাওয়ায় সিংখালী গ্রামের নানা বাড়িতে বড় হয়েছেন পরীমনি। তার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন কেটেছে নানা বাড়িতেই। ছাত্রী হিসেবে পরী ছিলো অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী। পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান তিনি।

 

দক্ষিণ সিংহখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন জানান, ১৯৯৫-৯৬ সালের দিকের কথা। তখন স্মৃতির বয়স মাত্র তিন বছর। তার বাবা মনিরুলের তখন ঢাকায় পোস্টিং। সেখানে একটি বাসায় আগুনে পুড়ে গুরুতর দগ্ধ হন স্মৃতির মা সালমা। ঢাকায় কিছুদিন চিকিৎসার পর তাকে বাবা শামসুল হক গাজীর কাছে রেখে যান মনিরুল। এর দুই মাস পর মারা যান সালমা।

 

এরপর থেকে স্মৃতিকে তার নানা-নানি ও খালারা লালন-পালন করেন। স্মৃতির নানি মরহুমা ফাতিমা বেগম দক্ষিণ সিংহখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর আমি প্রধান শিক্ষক হই।

 

স্মৃতি ওরফে পরীমণি সর্ম্পকে তিনি বলেন, ছোট থেকে স্মৃতি ভালো ছাত্রী ছিল। তার নীতি-নৈতিকতাও ভালো ছিল। পঞ্চম শ্রেণিতে স্কুল থেকে একমাত্র সে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়। এখন পর্যন্ত এই স্কুল থেকে আর কেউ বৃত্তি পায়নি। দেখতে খুব সুন্দর ছিল স্মৃতি। মা হারানো এতিম শিশুটিকে এলাকার সবাই অনেক আদর করত।

 

পরিমণির ছোট খালা তাসলিমা পাপিয়া বলেন, ২০১২ সালে খু ন হন স্মৃতির বাবা পুলিশ কনস্টেবল মনিরুল ইসলাম। কোনো একটা কারণে তার চাকরি চলে গিয়েছিল। তখন তিনি গ্রামের বাড়িতে থেকে ব্যবসা করতেন। আমরা শুনেছি, সেই ব্যবসার বিরোধ নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে কু পিয়ে হ ত্যা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *