পরীমণিকে বাসায় নিয়ে ১৮ ঘণ্টা সময় কাটান ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা

নজর২৪ ডেস্ক- ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকা পরীমনিকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ঢাকা মহানগর ডিবির গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েন শিথিলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

শনিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিথিলের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ এসেছে। তাকে ঢাকা মহানগর ডিবি থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত করা হবে। ডিএমপি ও পুলিশ সদর দফতর থেকে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

 

জানা গেছে, সাভারের বোট ক্লাবে ধ-র্ষ-ণ চেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের তদারকি কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম সাকলায়েন শিথিলের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে চিত্রনায়িকা পরীমণির।

 

সেই কারণে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় একাধিকবার যাতায়াতও করেছেন পরীমণি। এছাড়া তারা বিভিন্ন সময় গাড়িতে করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরাও করেছেন।

 

সূত্র জানায়, পরীমনিকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কটি ফাঁস হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাকলায়েনের বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজে পরীমনির বক্তব্যের সত্যতা পান।

 

সিসিটিভি ফুটেজ দেখা যায়, ১ আগস্ট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে পরীমণির সাদা রংয়ের হ্যারিয়ার গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৫ ৯৬ ৫৩) নিয়ে গোলাম সাকলায়েনের রাজারবাগের অফিসার্স কলোনির মধুমতি ভবনের ৯/সি নম্বর সরকারি ফ্ল্যাটে বাসায় আসেন। প্রথমে সেই গাড়ি থেকে লাল রংয়ের টি-শার্ট পরে বের হন সাকলায়েন। সাদা রংয়ের একটি স্লিপিং গাউন পরে নামেন নায়িকা পরীমণি।

 

প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর সেই রাতে সোয়া ২টায় ওই ভবন থেকে বের হন পরীমণি। তবে রাতে বের হওয়ার সময় পরীমণির পরনে ছিল কালো রংয়ের পোশাক, আর সাকলায়েনের গায়ে সাদা টি-শার্ট।

 

ডিবির একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, সাকলায়েন নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে মামলার তদন্তের সময় পরীমণির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিন্তু সাকলায়েন বিবাহিত, বিষয়টি জানার পর পরীমণি ও তার মধ্যে মনমালিন্য সৃষ্টি হয়। পরে দীপুর উদ্যোগে পরীমণির সঙ্গে তার সম্পর্ক স্বাভবিক হয়। গত কোরবানি ঈদের সময় পরীমণির বাসায় তিন দিন ছিলেন সাকলায়েন। তখন বাসায় তারা ছাড়া আর কেউ ছিল না।

 

এ বিষয়ে পরীমণির গাড়িচালক নাজির হোসেন বলেন, রাজারবাগ পুলিশ কোয়ার্টারে পরীমণিকে গত ১ আগস্ট সকালে তিনি গাড়ি চালিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। আবার রাতে পরীমণির ফোন পেয়ে তাকে আনতে যান। এছাড়াও তারা দু’জনই গাড়ি চালাতে পারে। তারা মাঝেমধ্যেই আমাকে রেখে নিজেরা ড্রাইভ করে হাতিরঝিলে ঘুরতে যেতো। গাড়ি চালানো অবস্থায় তারা কোনো কথা বলতেন না। তবে গাড়িতে ম-দ্য-পান করতো। আবার মাঝেমধ্যে তারা একা গাড়ি নিয়ে বের হতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *