নজর২৪ ডেস্ক- নায়িকা পরীমনির সঙ্গে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েন শিথিলের ‘সম্পর্কের’ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
শনিবার (৭ আগস্ট) মালিবাগের সিআইডি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ওমর ফারুক এ তথ্য জানান।
গত বুধবার র্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া চিত্রনায়িকা পরীমণিকে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সিআইডিতে হস্তান্তর করেছে বনানী থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছে র্যাব।
পরীমণির নানা অপরাধের সূত্র অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়েই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হল, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম সাকলায়েন শিথিলের সঙ্গে পরীমণির ‘অন্তরঙ্গতা’র কথা। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম খবরও প্রকাশ করেছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডির ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন,‘ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হলেও আমরা অবশ্যই তার বিষয়েও তদন্ত করব। কেউ তো আইনের ঊর্ধ্বে না। সে যেই হোক না কেন, আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যি ঘটনা উদঘাটন করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা থরোলি তদন্ত করব। যেকোনো বিষয় আমাদের নজরে আসবে। যে বিষয়গুলো মিডিয়াতে আসবে সেগুলো আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খ জিজ্ঞাসা করে সত্যিকারের ঘটনাটি খুঁজে বের করব।’
‘এরইমধ্যেই আমরা মামলার সব নথি বুঝে পেয়েছি। সেই সাথে অধিকাংশ আসামিকেও বুঝে পেয়েছি। আসামিদের মধ্যে পরীমনি, নজরুল ইসলাম রাজ, পিয়াসা এবং মৌকে আমরা বুঝে পেয়েছি। হেলেনা জাহাঙ্গীর ও মিশু হাসান পুলিশের অন্য একটি মামলায় রিমান্ডে থাকায় তাদেরকে এখনো বুঝে পাইনি। আশা করছি খুব দ্রুতই তারা আমাদের কাছে আসবে।’
তিনি বলেন, ‘আসামি ও মামলার নথি পাবার পর থেকেই আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছি। মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করতে গেলে আমাদের কিছু সময় প্রয়োজন। তবে তদন্তে আমরা সব কিছুকেই গুরুত্ব দেব।’
পরীমনির বাসায় ৪ আগস্ট বিকেল পৌনে ৫টার দিকে অভিযান শুরু করে র্যাব। তার আগে ফেসবুকে লাইভে এসে পরীমনি অভিযোগ করেন, কে বা কারা তার বাসার দরজায় ধাক্কাধাক্কি করছে।
পরে র্যাব অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ সন্ধ্যায় তাকে আটক করে র্যাবের প্রধান কার্যালয়ে নেয়া হয়। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করে বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দিয়ে বনানী থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে আদালতে তুলে সাত দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। পরে শুনানি শেষ তাকে জ্ঞিাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড আদেশ দেয় আদালত।
এরই মধ্যে তার মামলার তদন্তভার দেয়া হয়েছে সিআইডিতে।
