পিয়াসা ও মৌ ‘রাতের রানী’, ব্ল্যাকমেইল করতেন ধনীর দুলালদের

নজর২৪, ঢাকা- ‘পিয়াসা ও মৌ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। ওরা রাতের রানী বলেই সুপরিচিত। সারাদিন ঘুমিয়ে কাটাতেন। রাতে বিভিন্ন পার্টিতে গিয়ে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের টার্গেট করে বাসায় ডেকে আনতেন। এরপর বাসায় গোপনে তাদের আপত্তিকর ছবি তুলতেন। সেই ছবি বাবা-মা বা পরিবারের সদস্যদের দেখানোর ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতেন।’

 

রবিবার (১ আগস্ট) রাতে বারিধারা ও মোহাম্মদপুরের পৃথক দুটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আলোচিত ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌকে আটকের পর এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ।

 

পিয়াসাকে তার বারিধারা বাসা থেকে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আটক করে পুলিশ। এরপর অভিযান চালানো হয় মোহাম্মাদপুরের বাবর রোডে মৌ-এর বাসায়।

 

অভিযানের সময় তাদের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মদ, ইয়াবা জব্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে আটকের সময় পিয়াসা ও মৌ দাবি করেন তাদের ফাঁসানো হয়েছে। মাদকদ্রব্যের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।

 

অভিযান শেষে শনিবার রাত ১টার দিকে মোহাম্মদপুরে মৌয়ের বাড়ির নিচে সংবাদ সম্মেলন করেন ডিবি উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, ‘তারা দুইজন সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে আমরা অনেক ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ পেয়েছি। সেসব ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তাদের বাসায় অভিযান চালানো হয়। দুই জনের বাসায় বিদেশি মদ ও ইয়াবা পাওয়া যায়। পিয়াসার বাড়িতে শিশা সেবনের সরঞ্জাম ছিল।

 

কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আটক দুইজন দিনের বেলায় ঘুমান এবং রাতে এসব কর্মকাণ্ড করেন। উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পার্টির নামে বাসায় ডেকে আনতেন তারা। বাসায় এলে তারা তাদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ধারণ করে রাখতেন। পরে সেসব ভিডিও এবং ছবি পরিবারকে পাঠাবেন বলে ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিতেন।’

 

তিনি বলেন, ‘বাসায় মাদক পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর ও গুলশান থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হবে। এ ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ থাকায় আলাদা মামলা হবে। এসব মামলায় আমরা তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *