গ্রাহকদের কাছে সময় চাইলেন ইভ্যালির এমডি রাসেল

নজর২৪ ডেস্ক- সময়ের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির পণ্য ডেলিভারি ও সময়ক্ষেপণ নিয়ে কয়েকদিন ধরে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে গত দুদিন ধরে ইভ্যালির প্রধান কার্যালয় বন্ধ। অনেক গ্রাহক তাদের অর্ডার করা পণ্য না পেয়ে ভিড় জমাচ্ছেন সেখানে। তবে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

 

এ প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মোহাম্মদ রাসেল একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। শুক্রবার রাত ১০টায় তার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া পোস্টে তিনি গ্রাহকদের কাছে সময় চেয়েছেন।

 

মোহাম্মদ রাসেল তার পোস্টে বলেন, ‘ইভ্যালির পক্ষে-বিপক্ষে অনেক মতামত সোশ্যাল মিডিয়াতে পেয়েছি এবং দেখেছি। এতদিন ইভ্যালির যে লস, সেটা শুধুমাত্র বিজনেস ডেভেলপমেন্টের ইনভেস্টমেন্টে গিয়েছে। এখন ইভ্যালির অর্গানিক সেলস অনেক বেড়েছে। অনেকে এই সময় মতামত দিচ্ছেন, বন্ধ করে পুরাতন অর্ডার ডেলিভারি করা হোক।

 

‘কিন্ত এখন তো আমরা অগ্রিম টাকা পাই না। গত দুই সপ্তাহ কীভাবে তাহলে পুরাতন অর্ডার থেকে ৪০ কোটি টাকার অধিক ডেলিভারি করা হলো?

 

‘আমরা বড় বড় সেলারদের ৪ হাজার কোটির বেশি পেমেন্ট দিয়েছি। তারা আমাদের পাশে থাকতে চান। কিন্তু মিডিয়া অথবা সোশ্যাল মিডিয়া যখন ডেসটিনির মতো কোম্পানির সাথে তুলনা করেন, তখন যে কেউ ই ভয় পেয়ে যান। আমরা বিজনেস সবাই বুঝি। এটা একটা চলমান সম্পর্কে থাকার বিষয়। সেলস থাকলে সেলার থাকবে। এবং সেলার থাকলে পণ্য থাকবে।’

 

বিদেশি বিনিয়োগ বড় বাধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই বিজনেস ডেভেলপমেন্টে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল দেশি অথবা বিদেশি বিনিয়োগ। কেউ কি আমাকে দয়া করে কোনো আইনি ধারা উল্লেখ করতে পারেন, যেটি হয়তো আমার অজান্তেই মিস করে গেছি, যে কারণে আপনি বলতে পারেন ইভ্যালি অবৈধ?’

 

এ সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত লিখবেন বলে জানান রাসেল।

 

তিনি লিখেছেন: ‘মিডিয়ায় অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে ক্রিমিনাল না বানিয়ে বিচার না করার অনুরোধ করতে পারি শুধু। আমি বাংলাদেশের সব বড় গ্রুপ এখন যাচ্ছি। আমার হয়তো পুঁজি ঘাটতি। কেউ পুঁজি দিলেই কিন্ত কাল আমাকে সবাই হিরো বলত।

 

‘যেই জিনিসটা ইভ্যালি অর্জন করতে চেয়েছিল, ইভ্যালির একদম সেটার দ্বারপ্রান্তে। এতো কিছুর পর নতুন নীতিমালার আলোকে ইভ্যালির সেলস ১০০ কোটি টাকা (পেইড)। এই সময় এসে গঠনমূলক অথবা পরামর্শমূলক আলোচনা অবশ্যই সবার উপকার হবে।’

 

এত অভিযোগের পরেও রাসেল ইভ্যালি নিয়ে আশাবাদী উল্লেখ করে বলেন, ‘ইভ্যালি নিয়ে আমি শতভাগ আশাবাদি। এবং এর চেয়েও বেশি আশাবাদি ইকমার্স নিয়ে। বিদেশি Amazon আসলে আমরা খুশি হব স্বাভাবিক। কিন্ত দেশের কেউ ইকমার্স লিড দিবে, এটা আমি শতভাগ নিশ্চিত। কারণ আমরা এখন সবচেয়ে দ্রুত উন্নয়নশীল জাতি। আমাদের একটু সময় দিন।’

 

আরও পড়ুন-

 

ইভ্যালির রাসেল এখন কোথায়?

 

নজর২৪ ডেস্ক- ই-কমার্স সাইট ইভ্যালির রাসেল কি লাপাত্তা? বহুল সমালোচিত এই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল এখন জনসমক্ষে আসছেন না।

 

প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে ৩৩৯ কোটি টাকা দায়ের তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই এটির কার্যক্রমকে ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পাওনাদাররা প্রতিদিন ধানমন্ডির সোবহানবাগ কার্যালয়ে ভিড় জমাচ্ছেন। কিন্তু কার্যালয় বন্ধ।

 

এমডি রাসেল সেখানে আসছেন না প্রায় মাসখানেক ধরে। বন্ধ তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও। এরই মধ্যে শনিবার ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামিমা নাসরিন ও এমডি মোহাম্মদ রাসেলের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত।

 

এ পরিস্থিতিতে গ্রাহক ও মার্চেন্টেদের মনে নানা প্রশ্ন। প্রতিষ্ঠানটির এমডি রাসেল কি অন্ধকারে চলে গেছেন? তিনি কি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন? যদি তিনি কোনোভাবে দেশ ছেড়ে চলে যান, তাহলে ইভ্যালির ভবিষ্যত কী হবে? ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনার দায়িত্ব কে নেবে?

 

মোহাম্মদ রাসেল এখন কোথায়, তা জানার চেষ্টা করেছে গণমাধ্যম। তার ব্যক্তিগত ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

 

শুক্র ও শনিবার সোবহানবাগে ইভ্যালির কার্যালয়ে গিয়ে তার হদিস মেলেনি। ২৭ জুন থেকে কার্যালয় বন্ধ। সেখানে নোটিশে বলা আছে, লকডাউনের কারণে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বাসা থেকে অফিস করছেন। নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, অফিসের কর্মীরা কম্পিউটার বাসায় নিয়ে গেছেন।

 

ইভ্যালির হেল্পলাইনে (নম্বর 09638111666) একাধিকবার চেষ্টার পর একবার কলসেন্টারে ঢোকা সম্ভব হলেও সেখানে সাড়ে পাঁচ মিনিটেও কারও সংযোগ দিতে পারেনি হেল্পলাইন। এরপর কলটিও কেটে যায়।

 

ইভ্যালির প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা শবনম ফারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘রাসেল দেশেই আছেন। সস্ত্রীক ঢাকাতেই অবস্থান করছেন।’ শবনম পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কেন তার কি দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা?’

 

তিনি কোথায় অবস্থান করছেন জানতে চাইলে শবনম ফারিয়া জানান, ঢাকায় রয়েছেন, এটা নিশ্চিত। তবে কোথায় অবস্থান করছেন, এ সম্পর্কে তার কাছে তথ্য নেই।

 

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইভ্যালি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘অনেকের অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে রাসেল আজ রোববার ফেসবুক লাইভে আসতে পারেন।’

 

ইভ্যালির ব্যাপারে গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ার প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মোহাম্মদ রাসেল শুক্রবার রাত ১০টায় তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন। যাতে তিনি তার অবস্থান ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি গ্রাহকদের কাছে সময় চান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *