বিতরণের আগেই প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের এ কী দশা!

নজর২৪ ডেস্ক- প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর নতুন ঘর বিতরণের আগেই বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে এসব ঘর নির্মাণ করায় ১১টি ঘরই ভেঙে পড়েছে। পাশাপাশি জোয়ারের পানি উঠে তলিয়ে গেছে আশ্রয়ণ এলাকা।

 

বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ১৪নং শ্রীপুর ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্পে এ অবস্থা হয়েছে। যদিও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে ভেঙে যাওয়া ঘরগুলো মেরামত শুরু হয়েছে। মূলত ভেঙে পড়া ঘর মেরামতে বরাদ্দ পেতে দেরি হওয়ায় সংস্কার কাজ শুরুতে দেরি হয়েছে।

 

জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের যথাযথ নজরদারি না থাকায় সরকারি বরাদ্দের পুরো টাকা দিয়ে কাজ করা হয়নি এখানে। এই ইউনিয়নে আশ্রয়ণের ঘর নির্মাণে পুকুর চুরির ঘটনা ঘটেছে। মূলত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্ত্বাবধায়নের কথা থাকলেও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ঘরগুলো নির্মাণ করেছেন।

 

তবে চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। আর ঘর ভেঙে পড়ার পেছনে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসকে দায়ী করেছেন তিনি। স্থানীয় প্রশাসন গঠিত টেকনিক্যাল কমিটি এ কথা জানিয়েছে বলে জানান ইউএনও।

 

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় শ্রীপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে ৪০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। ঘর নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ছিল পুরনো।

 

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন মাসুদ বলেন, ঘর বরাদ্দ ও জায়গা নির্বাচন সম্পর্কে কিছু বলার এখতিয়ার আমার নেই। কারণ আমি এসেছি দুই মাস হলো। প্রথম দফার ঘর নির্মাণ সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সময়ে হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবের দিনে বাহেরচরের ৪০টি ঘরে কমপক্ষে তিন ফুট পানি উঠে তলিয়ে যায়। ওই দিনই চেয়ারম্যান আমাকে জানিয়েছেন ঘর ভেঙে পড়েছে। ওখানকার দুটি ঘর পুরোপুরি ভেঙে গেছে আর ৯টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘর ভেঙে পড়ার পরে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

 

সেই কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে নির্মাণ ত্রুটিতে নয়, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ঘর ভেঙে পড়েছে। এরপরে ঘর মেরামতে বরাদ্দ আবেদন করা হয়। বরাদ্দ পেতে বিলম্ব হওয়ায় সংস্কার কাজ শুরুতেও সময় নিতে হয়েছে।

 

ইউএনও বলেন, গত তিন দিন হলো মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। মিস্ত্রিদের বলা হয়েছে উপকারভোগীরা যেমন চাইবে সেভাবেই ঘরগুলো মেরামত করে দিবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *