নজর২৪ ডেস্ক- করোনার ভারতীয় ধরন যখন দেশটির হাসপাতালগুলোকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছিল, সেই একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে কুষ্টিয়ায়। যে রোগীরা আসছেন, তাদের অবস্থা হঠাৎ করেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। দ্রুত অক্সিজেনের চাহিদা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। ফল, মৃত্য।
২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কেবল করোনায় মারা গেছেন ২১ জন। কুষ্টিয়াবাসী কিছুদিন আগেও করোনার স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে হেলাফেলা করছেন। আর এখন হাসপাতালে মৃত্যুর হার ভাবিয়ে তুলেছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা তাপস কুমার সরকার বলছেন, ‘খারাপ অবস্থা হওয়ার পর রোগীরা আসছেন হাসপাতালে। তা ছাড়া অপ্রতুল আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম। আছে অক্সিজেনসংকট।’
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আমিনুল হক রতন বলেন, ‘ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট এমনি। দ্রুত আক্রমণ করে, বেশি মৃত্যুর কারণ হয়।’
হাসপাতালে এখন করোনা রোগীই আছেন ২৭৩ জন। শয্যার অতিরিক্ত রোগী হাসপাতালের মেঝে, করিডর এবং বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অধিকাংশ রোগীকে অক্সিজেন দেয়ার দরকার হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বাড়ায় অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে কাড়াকাড়ি লেগে যাচ্ছে। অনেকেই ৩৫ থেকে ৭০ ভাগ অক্সিজেন স্যাচুরেশন নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন। তাদের অবস্থা জটিল। তাদের কমপক্ষে এক সপ্তাহের জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশির ইতিহাস।
এ রকম বেশির ভাগ রোগীই আসছেন জটিল অবস্থা নিয়ে। আর অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়ার পর যেসব রোগী আসছেন, তাদের বাঁচানো কঠিন হচ্ছে- বলেন চিকিৎসক তাপস সরকার।
তিনি বলেন, এসব রোগীর আবার আগের নানা শারীরিক জটিলতাও থাকছে।
করোনা ইউনিটে কাজ করা চিকিৎসক রাজীব মৈত্র বলেন, ‘এখন ১০০ জনের বেশি রোগী আছেন, যাদের স্যাচুরেশন ৬০ ভাগের নিচে। তাদের উচ্চ মাত্রায় অক্সিজেন দেয়া দরকার। কিন্তু সামর্থ্য আছে ১০ জনকে দেয়ার।
তিনি বলেন, ‘করোনা রোগীদের এসব স্যাচুরেশন মোকাবিলা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সাত-আট দিন ভোগার পর জটিল হয়ে আসছেন রোগীরা।’
যখনই লক্ষণ শুরু হয়, হাসপাতালে আসার আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনে টেলিফোনে চিকিৎসা নেয়ার কথা বলেন।
