বোটক্লাবে সেই রাতে ‘সবাই ছিলেন মাতাল’, তদন্তে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

নজর২৪ ডেস্ক- ঢাকা বোট ক্লাবে হত্যা ও ধর্ষণচেষ্টা নিয়ে নায়িকা পরীমনি যেসব কথা বলেছেন, তার সব সত্য নয়, অনেক কিছুই বানোয়াট। মামলার আসামি ক্লাবের সাবেক সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ এবং পরীমনির সঙ্গী অমির বক্তব্যেও গরমিল পাওয়া গেছে।

 

সেই রাতে তারা সবাই অতিরিক্ত মদপান করেছিলেন। তাই কে কী করেছেন, তার সঠিক চিত্র তারা নিজেরাও ঠিকমতো বলতে পারেননি। পরীমনির সঙ্গী অমি পরদিন ক্লাবে গিয়ে মদের বিল বাবদ লক্ষাধিক টাকা দেন।

 

সাভার থানায় পরীমনির করা ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।

 

গণমাধ্যমকে তারা জানান, বাদী ও আসামিরা একে অপরের বিরুদ্ধে যেসব কথা বলেছেন, তার কিছু সত্য, কিছু মিথ্যা। কেউই পুরোপুরি সত্য বলছেন না। এ ঘটনায় তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন থাকতে পারে, যাদের সঙ্গে পরীমনি ও নাসির উভয়েরই দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের কারসাজিতেই বোট ক্লাবে সেই অনকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

 

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তের মূল উদ্দেশ্য পরীমনির অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন। তাই তৃতীয় পক্ষকে সামনে আনতে বা তদন্তের অগ্রগতি এখনই খোলাসা করতে চান না তারা।

 

কী ঘটেছিল সেই রাতে

সেই রাতে ঢাকা বোট ক্লাবে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, তা জানতে তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছে গণমাধ্যম।

 

তারা জানান, পরীমনির সঙ্গে সেদিন তিনজন ছিলেন। তাদের একজন ব্যবসায়ী অমি। অপর দুজনের একজন তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ করিম জিমি; অপরজন সম্পর্কে তার বোন বনি। ক্লাবের দোতলায় বসার সময় জিমির ড্রেস কোড নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। জিমি শর্ট প্যান্ট, গেঞ্জি ও স্যান্ডেল পরা ছিলেন।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মামলার পর থেকেই দফায় দফায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিয়েছেন। বাদীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন। আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। ঢাকা বোট ক্লাবের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করেছেন।

 

‘সবাই ছিলেন মাতাল’

এ সব তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, সেই রাতে পরীমনি ও তার তিন সঙ্গী এবং অভিযুক্তদের সবাই ছিলেন মাতাল। অতিরিক্ত মদপান করে কে কী করেছেন, তার সঠিক চিত্র তারা নিজেরাও ঠিকমতো বলতে পারেননি। প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন ১২-১৪ জন। তাদের মধ্যে যারা মদপান করেননি, মানে স্বাভাবিক ছিলেন, তাদের কাছ থেকে সেই রাতের প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

 

‘জোর করে দুই বোতল দামি মদ নিতে চান পরীমনি’

কর্মকর্তারা জানান, পরীমনি ক্লাবে আমন্ত্রিত ছিলেন না। গাড়ি নিয়ে অমির সঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে সেই ক্লাবে ঢোকেন। সেখানে গিয়ে ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। নাসিরের সঙ্গে তার দেখা ও কথা হয়। সঙ্গীদের নিয়ে তিনি দুই বোতল মদপান করেন।

 

পরীমনি আরও দুই বোতল দামি মদ জোর করে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়েই ঝগড়া শুরু পরীমনি ও নাসিরের। প্রথমে ধমকাধমকি। তারপর পরীমনিকে চড়-থাপ্পড় মারেন নাসির। অমি নিজেই পরদিন গিয়ে আগের রাতের বিল হিসাবে লক্ষাধিক টাকা পরিশোধ করেন ক্লাবের মেম্বার হিসেবে।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পরীমনি ছিলেন অস্বাভাবিক। তিনি বনানীর বাসা থেকে এক দফা মদপান করেই গিয়েছিলেন সাভারের সেই বোট ক্লাবে। সেখানে দুই বোতল শেষ করার পর আরও দুই বোতল দামি বিদেশি মদ নিতে চাইলে নাসিরের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়।

 

এর জের ধরে পরীমনিকে থাপ্পড় মারেন নাসির। তার দেখাদেখি ক্লাবে উপস্থিত আরেক ব্যক্তি পরীমনি ও তার সঙ্গীদের মারধর করেন। একে তো মদের নেশা, তার ওপর দুজনের মারধরে পরীমনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপর সঙ্গীরা ধরাধরি করে তাকে গাড়িতে নিয়ে যান।

 

উল্লেখ্য, ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনি ১৩ জুন রাতে গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, ঢাকা বোট ক্লাবে ৯ জুন রাতে তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়। এ অভিযোগে সাভার থানায় করা মামলায় ১৪ জুন গ্রেপ্তার করা হয় নাসির ও তার সহযোগী অমিকে। তাদের মধ্যে নাসির জামিন পেয়েছেন সম্প্রতি।

 

আরও পড়ুন-

‘ডানাকাটা পরি’ গান বাজিয়ে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *