লকডাউনে গার্মেন্টস খোলা, পায়ে হেঁটে আসতে হবে শ্রমিকদের

নজর২৪, ঢাকা- করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) এর বিস্তার রোধে ১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকাল ৬টা থেকে ৭ জুলাই (বুধবার) মধ্যরাত পর্যন্ত মানুষের সার্বিক কার্যাবলী ও চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার।

 

এসময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু রাখতে পারবে শিল্প-কারখানা। খোলা থাকবে পোশাক কারখানাও। এসময় হেঁটে, রিকশায় বা সাইকেল চালিয়ে কারখানায় যেতে হবে শ্রমিকদের।

 

বুধবার (৩০ জুন) বিধিনিষেধ আরোপ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

 

গার্মেন্টস খোলা রাখার বিষয়ে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, যেহেতু মুভমেন্ট পাস নেই, সেহেতু যেসব শ্রমিক কারখানার পাশে থাকবে কেবল তারাই কারখানা প্রবেশ করতে পারবে।

 

তিনি বলেন, পায়ে হেঁটে, রিকশা বা সাইকেল চালিয়ে কারখানায় আসা যাবে। মালিকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। যেসব মালিক কারখানার আশপাশে থাকবে কেবল তারাই কারখানায় প্রবেশ করতে পারবে। দূর থেকে কোনও শ্রমিক বা মালিক কোনও কারখানায় যাওয়া-আসা করবে না। তবে দূর থেকে কেউ আসতে হলে তাকে রিকশা অথবা সাইকেল চালিয়ে অথবা হেঁটে আসতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই। একই সঙ্গে আমরা কারখানা চালু রাখতে চাই। যেহেতু রাস্তায় যানবাহন চলবে না, সেহেতু সীমিত আকারে হোক আর পুরোপুরি হোক কারখানার আশপাশের শ্রমিকদের দিয়ে কারখানা চালু রাখতে হবে।

 

এ প্রসঙ্গে বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, কারখানার ভেতরে পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মানা হবে। আর কারখানায় শ্রমিকদের আসা-যাওয়ার জন্য মালিকরা ব্যবস্থা নেবে।

 

তিনি বলেন, আমাদের অধিকাংশ শ্রমিক পায়ে হেঁটে কারখানায় আসে। ফলে শ্রমিকদের কোনও সমস্যা হওয়ার কথা না। তবে যেসব শ্রমিক দূর থেকে আসে। তারা আপাতত কারখানায় আসবে না। অথবা মালিকদের গাড়িতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানায় প্রবেশ করবে।

 

তিনি উল্লেখ করেন, সবাই আইডি কার্ড প্রদর্শন করে কারখানায় প্রবেশ করবে। মালিক ও কর্মকর্তারাও সার্বক্ষণিক আইডি কার্ড প্রদর্শন করে পুলিশের সঙ্গে কোমল ব্যবহারের মধ্য দিয়ে কারখানা প্রবেশ করবে। তবে ঢাকা বা গাজীপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ যাওয়া আসা। অথবা নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা বা গাজীপুর যাওয়া আসা আপাতত বন্ধ থাকবে।

 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বুধবার দেয়া প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। এ সময় সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহনসহ যন্ত্রচালিত যানবাহন বন্ধ থাকবে।

 

আইনশৃঙ্খলা ও জরুরি পরিষেবায় জড়িত ব্যক্তিদের এই বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছে।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কৃষিপণ্য ও উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যদ্রব্য ও খাদ্যশস্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকাদান, রাজস্ব আদায়-সম্পর্কিত কার্যাবল যেমন, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বা জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তাব্যবস্থা, ডাক সেবা, ব্যাংক, ফার্মেসি ও ফার্মাসিটিক্যালস অন্য জরুরি ও অত্যাবশকীয় পণ্য এবং সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোর কর্মচারীরা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র দেখিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন।

 

এ ছাড়া পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যান, কার্গো ভেসেল নিষেধাজ্ঞা আওতার বাইরে থাকবে। যারা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকা নেবেন, তারা টিকা কার্ড দেখিয়ে বাইরে বের হতে পারবেন।

 

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকায় বিদেশগামী যাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকিট দেখিয়ে গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন বলেও জানানো হয় প্রজ্ঞাপনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *