নজর২৪, পটুয়াখালী- পটুয়াখালীর বাউফলে প্রেমের সম্পর্কের ঘটনায় সালিস বৈঠকে কিশোরীকে বিয়ে, পরের দিন তালাক দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত কনকদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
সোমবার (২৯ জুন) রাতে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ৬ নম্বর কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহিন হাওলাদার সালিশ করতে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৪ বছর ২ মাস ১৪ দিন) কিশোরীকে বিয়ে করায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪ (৪) (ঘ) ধারার অপরাধ সংঘটিত করায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
কেন তাকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না, চিঠি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তার জবাব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠাতেও বলা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি আপনাদের মিডিয়াম্যানদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে কোনো চিঠি পাই নাই।’
জানতে চাইলে বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার বলেন, ‘আমি কোনো চিঠি পাই নাই। টিভিতে দেখছি। তবে আমি বুজি না যে, কেন আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হবার মতো কোন কাম করি নাই। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’
১৪ বছর বয়সী মেয়েকে বিয়ে করেও তাকে প্রাপ্তবয়স্ক দাবি করে শাহীন বলেন, ‘আমি তো কোনো অন্যায় করি নাই। তারপরেও কেন কিভাবে আমাকে বরখাস্ত করা হলো আর এটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা আমার বোধগম্য নয়।
এই ঘটনায় চেয়ারম্যান শাহীন কেবল পদ হারানোর ঝুঁকিতে নন, তার সাজাও হতে পারে। কারণ, তিনি প্রথমত. অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে করেছেন, দ্বিতীয়ত. প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই এই বিয়ে করেছেন। দুটোই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর তার বিয়ে করার এই ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছে হাইকোর্ট।
জানা গেছে, কনকদিয়া ইউনিয়নের নারায়নপাশা গ্রামের বাসিন্দা মো. রমজান (২৫) একই ইউনিয়নের চুনারপুল এলাকার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি মেয়েটির বাবা। তিনি বিষয়টি কনকদিয়া ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদারকে জানান।
পরে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার আনুষ্ঠানিকভাবে ওই যুবক ও কিশোরীর বিয়ে দেওয়ার কথা বলে কনকদিয়া ইউপি কার্যালয়ে সালিস বৈঠকের আয়োজন করেন। সে অনুযায়ী গত শুক্রবার সকাল ৯টায় দুই পরিবারের সদস্যরা ইউপি কার্যালয়ে যান।
সেখানে মেয়েটিকে দেখে পছন্দ হয়ে যায় চেয়ারম্যানের। তিনি মেয়েটিকে বিয়ে করার আগ্রহ দেখান। মেয়ের বাবা এতে রাজি হলে বিকেলেই কাজি ডেকে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে মেয়েটিকে বিয়ে করেন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার। বিয়ের কাবিন নামায় মেয়েটির জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২০০৩ সালের ১১ এপ্রিল। কিন্তু বিদ্যালয়ে দেওয়া জন্মনিবন্ধন ও পিএসসি পাসের সনদ অনুযায়ী মেয়েটির জন্মতারিখ ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল। বিয়ের পর মেয়েটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান চেয়ারম্যান। তবে বাড়িতে তার প্রথম স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন না।
বিয়ের পর দিন শনিবার (২৬ জুন) তালাক কিশোরী নসিমন বেগম (১৪) চেয়ারম্যানকে তালাক দেন। এরপর সোমবার (২৮ জুন) সকালে প্রেমিক রমজান হাওলাদারের বড় ভাই হাফেজ মো. আল ইমরান বাদী হয়ে হাওলাদারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আমলি আদালতে মামলা করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার স্ত্রী আছে। সেই সংসারে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলেকেও বিয়ে দিয়েছেন।
