শেরপুরে ভয়াবহ হয়ে ওঠেছে করোনা: আক্রান্ত আরো ২ জনের মৃত্যু

মিজানুর রহমান, শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরে ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে ওঠছে করোনা পরিস্থিতি। মৃত্যু এবং আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। ২৮ জুন সোমবার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো দু’জনের মৃত্যু ঘটেছে। এছাড়া করোনা উপসর্গে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে।

 

এনিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে ২৫ জনের মৃত্যু ঘটলো। তন্মধ্যে জুন মাসের এ কয়দিনেই জেলায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

সোমবার করোনা আক্রান্ত হয়ে যে দু’জন মারা গেছেন, তারা হলেন-সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের দাড়িয়াখিলা গ্রামের যুবক সোহাগ মিয়া (২৬) ও নালিতাবাড়ী উপজেলার রাজনগর এলাকার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ মাস্টার (৭০)। মৃত্যুবরণকারী নূর হোসেন মাস্টার বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মাসুদ হাসান বাদলের শ্বশুর। এছাড়া এদিন নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লোক্সে সর্দি-জ্বর, শ্বসকষ্ট সহ করোনা উপসর্গ নিয়ে মকবুল হোসেন (৫৫) নামে একজন মারা গেছেন।

 

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, সোমবারের ২ জন সহ করোনায় জেলায় এ পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু ঘটলো। তন্মধ্যে সদর উপজেলার বাসিন্দা ১৭ জন। জুন মাসের এ কয়দিনে জেলায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

শেরপুর করোনা ফোকাল পারসন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোবারক হোসেন জানান, সোহাগ মিয়ার দুই দিন আগে করোনা শনাক্ত হলে জেলা সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হন। সোমবার তার শ্বাসকষ্ট মারাত্মক আকার ধারণ করলে তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। দুপুরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে।

 

অপরদিকে, এক সপ্তাহ আগে নুর হোসেন মাস্টারের করোনা শনাক্ত হলে হোম আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় সোমবার অবস্থার অবনতি হলে জেলা হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

সর্দি-জ্বর, শ্বসকষ্ট সহ করোনা উপসর্গ নিয়ে নকলার মকবুল হোসেন রবিবার বিকেলে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর সোমবার বেলা ১১টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে। ডা. মোবারক বলেন, শেরপুরে করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। সবাইকে তিনি সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাস্ক পড়ুন, সচেতন হোন, বাড়ীতে অবস্থান করুন।

 

এদিকে, শেরপুর সদরের লছমনপুর এলাকার বাসিন্দা তরুণ ব্যবসায়ী মমতাজ উদ্দিন (৪৪) করোনায় আক্রান্ত হয়ে সোমবার ভোরে রাজধানীর গ্রীণ লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর নিকটাত্মীয় পুস্তক ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ব্যবসায়ী মমতাজ উদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মমতাজ কক্সবাজার জেলার সী-বীচ সংলগ্ন হোটেল-মোটেল জোনে হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করতেন এবং সেখানেই তিঁনি করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন।

 

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া স্বাস্থ্য বুলেটিন হতে জানা যায়, শেরপুর জেলায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত ধরা পড়েছে ১ হাজার ৩৮৩ জনের। তাদের মধ্যে ৮৩৪ জন সুস্থ হয়েছেন এবং মারা গেছেন ২৫ জন। বর্তমানে জেলায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫২৭।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *