নজর২৪ ডেস্ক- সালিস করতে এসে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে বিয়ে করার ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরপর তালাকনামা পেয়েছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার।
পরে তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন আবার বিয়ে করবেন। এবার আর একজনকে নয়, চারজনকে বিয়ে করবেন। খবর- নিউজ বাংলার
জানা যায়, সেই কিশোরীর প্রেম ছিল স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামের সঙ্গে। তারা দুজন পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের নিয়ে সালিসে বসেছিলেন গত ২১ জুন দ্বিতীয়বারের মতো ভোটে জেতা আওয়ামী লীগ নেতা।
ঘটনা এটি হলেও চেয়ারম্যানের দাবি, তার প্রেম ছিল সেই কিশোরীর সঙ্গে। তার ভোটের ব্যস্ততার সুযোগে ইমাম সেই মেয়েটির সঙ্গে বাড়ান ঘনিষ্ঠতা। আর এই সুযোগে পালিয়ে যান। সালিসে তিনি সব খুলে বলার পর মেয়েটির বাবা বিয়ে দেন তার সঙ্গে।
মেয়েটির বিয়ের বয়স হয়নি। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে সনদও দেয়া হয় বিয়ে পড়ানোর আগে।
এদিকে শাহীন হাওলাদার আগে থেকেই বিবাহিত। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ছেলের বিয়ে দিয়েছেন। আর যাকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন, সেই মেয়ে ও তার নিজের মেয়ে সমবয়সী।
এই বিয়ের আগে প্রথম স্ত্রীর অনুমতিও নেননি চেয়ারম্যান শাহীন। আর রাগে তিনি পটুয়াখালীতে বাবার বাড়ি চলে গেছেন।
তালাকনামা কীভাবে
কিশোরীটি পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমামকে। আর তার কাছে ফিরে যেতে শাহীন হাওলাদারকে তালাক দিয়েছেন। এরপর চেয়ারম্যান শাহীন মেয়েটিকে তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেন বলে নিশ্চিত করেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি, এমনকি সেই কিশোরী নিজেও।
তালাক দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাজি আবু সাদেক হোসেনও। তিনি জানান, চেয়ারম্যানের সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটির বিষয়ের তথ্য গণমাধ্যমে এলে স্থানীয় প্রশাসন ও চেয়ারম্যানের পরিবারের পক্ষ থেকেও চাপ আসে। আর চেয়ারম্যান তখন মেয়েটির সঙ্গে কথা বলেন। শনিবার রাত ৯টার দিকে মেয়েটি ও চেয়ারম্যান শাহীন তালাকনামায় সই করেন।
এরপর মেয়েটিকে নিয়ে যান তার পরিবারের লোকজন।
কাজি বলেন, শুক্রবার বাদ জুমা চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদারের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই মেয়েটি উদাসীন ছিল। সে বারবার তার প্রথম স্বামীর কাছে যেতে চেয়েছিল।
‘মেয়েটি এমনও বলে, আমাকে রমজানের কাছে পাঠিয়ে দেন। না হলে আমি আ’ত্মহ’ত্যা করব’- বলেন তালাকনামায় সই নেয়া কাজি সাদেক হোসেন।
‘
এদিকে চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘হয়, তালাক হইছে। খুশি হইছেন আপনারা?’
মেয়েটিকে অশালীন গালি দিয়ে তিনি বলেন, ‘তার আগের স্বামী (গালি দিয়ে অন্য শব্দ) রয়েছে।’
বয়স লুকিয়ে বিয়ের দায় মেয়েটির ওপরে দেন শাহীন হাওলাদার। বলেন, ‘জন্মতারিখ ভুল করলে হেডা ওই (গালি দিয়ে) করছে আমি তো করি নাই। আমার কাছে যে জন্মসনদ আছে তাতে বয়স ১৮ হয়েছে। ভুল করলে ওইডায় করছে আমি তো করি নাই। আপনারা আমারডা মোডা দেখছেন হেইজন্য যা ইচ্ছা তাই লিখে যাচ্ছেন, কলিজায় জোর থাকলে ওর বিরুদ্ধে ল্যাহেন। ওর বয়স কম হওয়া সত্ত্বেও ও আগে এতগুলো বিয়ে করল ক্যামনে? হেইয়া ল্যাহেন।’
টানা কয়েক মিনিট এভাবে বলে চেয়ারম্যান জানতে চান ‘আর কিছু জানতে চান?’
তালাক পাওয়ার পর এখন কেমন লাগছে- এমন প্রশ্নে ক্ষিপ্ত হয়ে আবার বললেন, ‘অনুভূতি অনেক ভালো। আবার বিয়ে করব। আপনার কাছে কোনো সুন্দরী মাইয়া থাকলে নিয়ে আইসেন। একটা না, এক সাথে চাইরডা বিয়ে করমু। যদি না পারি তহন কইয়েন।‘
এই বলেই ফোন কেটে দিলেন চেয়ারম্যান।
