নির্বাচনে জিতে ১৬ বছরের কিশোরীকে বিয়ে করে আনন্দিত চেয়ারম্যান!

নজর২৪ ডেস্ক- চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করে আলোচনায় এসেছেন পটুয়াখালীর বাউফলের চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার। ৬০ বছর বয়সী এই জনপ্রতিনিধি বিয়ে করেছেন ১৬ বছরের এক মেয়েকে, যা আইনে দণ্ডণীয় অপরাধ।

 

স্কুল ছাত্রীর সঙ্গে স্থানীয় এক ইমামের প্রেমের সম্পর্কের নিষ্পত্তি করতে ডেকে গত শুক্রবার ওই ছাত্রীর সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন ওই চেয়ারম্যান। এই ঘটনায় হতাশ হয়ে সেই ইমাম বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।

 

এই বিয়েতে মেয়ের বয়স নিয়েও জালিয়াতি করার অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মেয়ের বয়স ১৮ বছর বলে সনদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সে যে স্কুলে পড়ত, সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এই কথা শুনে অবাক হয়েছেন।

 

চেয়ারম্যান শাহীন আগে থেকে বিবাহিত। তার কাছ থেকে কোনো অনুমতিও নেয়া হয়নি। আর এই বিয়ের পর তিনি রাগে বাবার বাড়ি চলে গেছেন। শাহীন দুই সন্তানের জনক। ছেলেকে এরই মধ্যে বিয়ে দিয়েছেন আর মেয়ের বয়স তার নব বিবাহিতা স্ত্রীর সমান।

 

ঘটনা যেভাবে ঘটল

কনকদিয়া ইউনিয়নের নারায়ণপাশা গ্রামের এক যুবক ও স্থানীয় মসজিদের ইমামের সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মেয়েটি স্থানীয় একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি পরিবার। এর মধ্যে দুইজন তিনদিন আগে বাসা থেকে পালিয়ে যায়।

 

পরে মেয়েটির বাবা দুইজনকে পাশের বাড়ির এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ধরে নিয়ে আসে এবং বিষয়টি সমাধানের জন্য কনকদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে জানান। চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার শুক্রবার ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ বৈঠক ডাকেন। বৈঠকে ছেলে ও মেয়ের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

বৈঠকে মেয়েটিকে দেখে পছন্দ হয়ে যায় চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের। তিনি মেয়েটির বাবাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তিনি রাজি হলে জুমার নামাজের পর চেয়ারম্যানের আয়লা বাজারস্থ বাসায় কাজী ডেকে পাঁচ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে হয়।

 

প্রেমিকা হারিয়ে ইমামের বিষপান

এই ঘটনা সহ্য করতে পারেননি মেয়েটির প্রেমিক সেই যুবক। প্রেমিকা হারানোর কষ্টে তিনি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। তিনি জাকেয়াবাদ দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি মসজিদের পেশ ইমাম হিসাবে কর্মরত।

 

সেই ইমামের ভাইয়ের সঙ্গে কথা হলে বলেন, ‘সে কেবল বলছে, আমি ওকে ছাড়া বাঁচব না। ওরে আমার ধারে আইন্যা দেন।’

 

চেয়ারম্যান যা বলছেন

যোগাযোগ করা হলে চেয়ারম্যান সালিশের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘তার সাথে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। পারিবারিকভাবেও জানছে। নির্বাচনের জন্য আমি বিয়া করতে পারি নাই। এই ফাঁকে ছেলেটা তারে নিয়া পলাইয়া গ্যাছে। কালকে বাবা মা নিয়া আসছে। তারপর তার বাবা সম্মতি দিছে। আমার মা সম্মতি দিছে। বিয়া করছি।’

 

চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত ২১ তারিখ রাতেই আমাদের পাঁচ লাখ টাকায় কাবিন হয়। পরে শুক্রবার বাদ জুমা কালমা ও মোনাজাত হয় এবং পরে তাকে আমার ঘরে নিয়া আসি।’

 

কনকদিয়া ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী মুছা মাওলানার ছেলে বিয়ে পড়িয়েছেন জানিয়ে তার নাম বলতে পারেননি চেয়ারম্যান। বলেন ‘এই মুহূর্তে তার স্মরণ নাই।’

 

অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে করার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি দাবি করেন, মেয়েটি তিনবছর আগে নবম শ্রেণিতে পড়ত। বর্তমানে লেখাপড়া করে না। জন্ম সনদ অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১১ এপ্রিল ২০০৩ ইং। বিয়ের বিষয়টি নিয়ে তিনি লজ্জিত নন বরং আনন্দিত বলেও জানান তিনি।

 

তবে মেয়েটি যে স্কুলে পড়ত, সেই কনকদিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র জানান, মেয়েটি অষ্টম শ্রেণির নিয়মিত ছাত্রী। তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের সঙ্গে তার বিয়ের ঘটনা কিছুক্ষণ আগে লোকমুখে শুনে অবাক হয়েছি।’

 

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, ‘লোকমুখে ঘটনা শুনেছি। তবে মেয়ের পক্ষ থেকে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। যদি বাল্যবিয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

 

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ‘মেয়ের বয়স যাচাই বাছাই শুরু করছি। তার জন্ম সনদ এবং স্কুলের সার্টিফিকেট সবকিছু আমরা সংগ্রহ করছি।’

 

উল্লেখ্য, শাহিন বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের হয়ে। গত ২১ জুন হয় ভোট। আর ভোটে জয়ের পরেই তিনি করেন বিয়ে। ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার কনকদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *