‘বিক্রি’ হচ্ছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা! কাদের বললেন ‘এসব বাজে কথা’

নজর২৪ ডেস্ক- ‘আর্থিক সুবিধা’ নিয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থীদের নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে দেওয়ার শুরুটা হয়েছিল ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে। গত সপ্তাহে ঘটল আরও দুটি ঘটনা। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা বিনা শ্রমে বা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হচ্ছেন।

 

এ ঘটনাগুলোকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির একটা প্রভাব বলে মনে করছেন জাপার নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। তাঁদের মতে, রাজনীতির স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়ে গেছে। খবর- প্রথম আলোর

 

সর্বশেষ ঢাকা-১৪ আসনের উপনির্বাচন থেকে গত বৃহস্পতিবার সরে দাঁড়ান সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান। দলকে না জানিয়ে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। ফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আগা খানকে (মিন্টু) গতকাল শুক্রবার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

 

এর আগে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া) আসনেও জাপার প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন একই কাজ করেন। সেখানে আওয়ামী লীগের আবুল হাসেম খানও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন।

 

আগামী ২৮ জুলাই ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ আসনে ভোট গ্রহণের তারিখ ছিল। এখন বাকি রইল সিলেট-৩ আসন। সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন জাপার প্রার্থী আতিকুর রহমান। বিএনপি ও তার জোট এই নির্বাচনে নেই।

 

‘আর্থিক’ লেনদেন
ঢাকায় ও কুমিল্লায় জাপার প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে আর্থিক লেনদেন রয়েছে বলে দলের ভেতরে–বাইরে আলোচনা আছে। জাপার একাধিক নেতা বলেন, মাঠে নামার আগেই কোনো কারণ ছাড়াই যেভাবে দুজন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, তাতে পরিষ্কার বোঝা যায়, তাঁরা নিজেদের বিক্রি করে দিয়েছেন।

 

তবে ঢাকা-১৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাংসদ আগা খান আর্থিক সমঝোতার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাকুর রহমানকে আমি চিনি না। তাঁর সঙ্গে আমার কোনো আলাপও হয়নি। আর টাকাপয়সা তো পরের কথা।’

 

জাপা সূত্র জানায়, এই উপনির্বাচনে দলের দুই প্রার্থীর কেউই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার আগে নির্বাচনী এলাকার দলীয় নেতা বা কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের কিছু জানাননি।

 

ঢাকা-১৪ আসনের শাহ আলী থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি মাহফুজ মোল্লা বলেন, ‘মনোনয়ন প্রত্যাহারের খবর শুনে আমি ওনাকে (মোস্তাকুর রহমান) ফোন করি। জিজ্ঞেস করি, “ভাই, ভোটে দাঁড়ানোর সময় বললেন; কিন্তু প্রত্যাহারের সময় কিছুই জানালেন না, ব্যাপার কী।” তিনি বলেছেন, তিনি নাকি দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। এখন আমরা আর্থিক লেনদেনের নানা কথা শুনছি।’

 

মোস্তাকুর রহমানও টাকার বিনিময়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাহলে এমন কী পরিস্থিতি হয়েছে যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলেন? জবাবে মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘মার/ধর না করলেও আমার নেতা-কর্মীদের হুম/কি-ধ/মকি দিচ্ছিল। আমি দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিবকে বলেছি, এভাবে নির্বাচন করতে পারব না।’

 

মোস্তাকুর রহমানের এই বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ‘এসব বাজে কথা। মাঠে কোনো চাপ ছিল না।’

 

প্রকাশ্যে নেই জসিম
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুমিল্লা-৫ আসনে জাপার প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন গত রোববার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসেম খানকেও সঙ্গে নিয়ে যান। ওই দিন জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘করোনার সময়, এলাকার লোকজনও আমাকে ধরেছেন নির্বাচন না করার জন্য। উনি (আওয়ামী লীগ প্রার্থী) মুরব্বি মানুষ, তাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।’

 

এরপর থেকে জসিম উদ্দিন আর প্রকাশ্যে নেই। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ। নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, টাকার বিনিময়ে জসিম উদ্দিন দলের কাউকে না জানিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

 

আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসেম খান অবশ্য বলেছেন, ‘জসিম আমার কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি, শুধু বলেছিলেন, আমার দিকে খেয়াল রাখবেন। দলের নেতা-কর্মীদের দিকে খেয়াল রাখবেন।’

 

আরও পড়ুন-

বিনা ভোটে এমপি আগা খান

বিনা ভোটে কুমিল্লার এমপি হচ্ছেন আ.লীগের হাশেম খান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *