নজর২৪ ডেস্ক- বঙ্গবন্ধু সেতু পারাপারের টোল আবার বাড়িয়েছে সরকার। আগামী অক্টোবর মাসের প্রথম দিন থেকে এই বাড়তি টোল গুণতে হবে পারাপারকারী যানবহনকে। এমনকি বঙ্গবন্ধু সেতু ব্যবহারকারী বাংলাদেশ রেলওয়েকেও দিতে হবে বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ টোল।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) ১১০তম বোর্ড সভায় টোল বাড়ানোর এই প্রস্তাব গৃহিত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সেতু বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দীক।
এদিকে গত ৭ জুন জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বগুড়া-৫ আসনের সাংসদ হবিবর রহমানের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জাতীয় সংসদকে জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে এই পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৩৪ কোটি ৩ লাখ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে। যদিও বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ৩ হাজার ৭৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
নতুন টোল অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু সেতুতে যানবাহনভেদে টোল বাড়ানো হয়েছে ১০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। মোটরসাইকেলে ১০ টাকা বাড়িয়ে ৫০ টাকা, হালকা যানবাহনে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৫৫০ টাকা, মাইক্রো/পিকআপে ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, ছোট বাসে ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা, বড় বাসে ১০০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা, ছোট ট্রাকে ১৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা, মাঝারি ট্রাকে ১৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫০ টাকা, ৮ থেকে ১১ টনের ট্রাকে ২০০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া তিন এক্সেলের ট্রাকে ২ হাজার টাকা, চার এক্সেলের ট্রেইলারে ৩ হাজার টাকা, চার এক্সেলের বেশি ট্রেইলারে ৩ হাজার টাকার পাশাপাশি অতিরিক্ত এক্সেলপ্রতি আরো ১ হাজার টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। এতদিন সেতু পারাপারের ক্ষেত্রে এ ক্যাটাগরিগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল না। অন্যদিকে ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে বার্ষিক টোল হার ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু সেতুর জন্য প্রথম টোল হার নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। এর ১৪ বছর পর ২০১১ সালে টোল হার ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি করে সরকার। এক দশক পর দ্বিতীয় দফায় ফের ১৭ শতাংশ হারে টোল বাড়ল সেতুটির।
এই সেতু থেকে সরকারের আদায় করা টোল বা আয় নির্মাণব্যয়ের প্রায় দ্বিগুণ। তারপরও টোল বাড়াল সেতু কর্তৃপক্ষ।
চার দশমিক আট কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু সেতু ১৯৯৮ সালে যানবাহন চলাচলের জন্যে খুলে দেওয়া হয়। যমুনা নদীর ওপর নির্মিত এ সেতু দেশের পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সড়ক, রেল, বিদ্যুৎ ও টেলিকমিউনিকেশন যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিন হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।
গত ৬ জুন ওবায়দুল কাদের সংসদে বলেন, ২৩ বছর আগে উদ্বোধনের পর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু ব্যবহারকারী যানবাহন থেকে টোল হিসেবে ছয় হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে।
এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ সময়ের মধ্যে সেতুটির পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং ডিএসএল (ডেবট সার্ভিস লায়াবিলিটি) প্রদান বাবদ চার হাজার ১০৪ দশমিক ২১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। সেতুটি নির্মাণের জন্য উন্নয়ন অংশীদারদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে পরিশোধ করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
