নজর২৪ ডেস্ক- ত্রিপুরা উপজাতীয় গোত্র থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন পূর্ণচন্দ্র ত্রিপুরা (৫৪)। মুসলিম হওয়ার পরে তার নাম হয় ওমর ফারুক। কিন্তু নতুন ধর্মে দীক্ষা নিয়ে বেশিদিন আর বাঁচতে পারেননি। নির্মমভাবে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হন তিনি।
শুক্রবার (১৮ জুন) বান্দরবানের রোয়াংছড়ি সদরের তুলাছড়ি আগাপাড়ায় তাকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। নিহত ওমর ফারুক একই এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম তয়ারাম ত্রিপুরা।
পুলিশ জানিয়েছে, ‘তুলাছড়ি আগা পাড়া মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।’ এদিকে হত্যার পাঁচ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
জানা যায়, ২০১৪ সালে ওমর ফারুক বন্ধুর সান্নিধ্যে থেকে ইসলাম গ্রহণ করেন। তারপর নিজের দুর্গম এলাকায় গড়ে তুলেন একটি মসজিদ। চালিয়ে যেতে থাকেন ধর্ম প্রচারের কাজ। বিধর্মীদের মাঝে ইসলাম প্রচারের কারণে নানা দিক থেকে আসতে শুরু করে হুমকি। তবুও তিনি দমে যাননি।
তার অদম্য মনোবলের কারণে নিজের পরিবার ছাড়াও রোয়াংছড়িতে তার মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেন ৩০টি উপজাতি পরিবার। তাকে হত্যার মাধ্যমে পাহাড়ে ইসলাম প্রচারের গতি কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করছেন নওমুসলিম ৩০টি পরিবার। ওমর ফারুকের নিজেরসহ ওই পরিবারগুলোর সবই এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।
স্থানীয় লোকজন দাবি করছেন, ত্রিপুরা গোত্রের লোক হয়েও ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করায় সশন্ত্র সন্ত্রাসী একটি গ্রুপ ওমর ফারুককে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। হত্যাকাণ্ডের সাথে পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তার করা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো জড়িত আছে।
স্থানীয়রা জানান, নিহত ওমর ফারুক সহজ-সরল ও সৎ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। আগে খ্রিস্টান ধর্ম পালন করতেন। পরে তিনি পরিবারসহ ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন। মুসলিম হওয়ার পর থেকে তিনি মসজিদে ইমামতি করতেন। তার স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তাদের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে দিলেও বাকিরা লেখাপড়া করে।
এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বান্দরবানের বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করছে বাঙালি ও উপজাতীয় মুসলিম সংগঠনগুলো।
এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাঙালি নাগরিক পরিষদের সভাপতি কাজী মুজিবর রহমান অভিযোগ করে বলেন বলেন, ওমর ফারুককে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্ত্রাসীরা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। মুসলিম হওয়াটাই ছিলো তার (ফারুক) মূল অপরাধ। তিনি জড়িতদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম তৌহিদ কবির বলেন, ঘটনার পরপরই মামলা হয়েছে। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম ও যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব খারাপ। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত তাও পরিবারের লোকজন শনাক্ত করতে পারেনি। এরপরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি হত্যাকারীদের ধরতে।
