নজর২৪ ডেস্ক- আরও এক ছাত্রদল নেতার ছাত্রলীগের পদ পাওয়া নিয়ে ফরিদপুরে তোলপাড় চলছে।
রায়হান রনি নামে এক তরুণ আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা অবস্থায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পাওয়া নিয়ে আলোচনার মধ্যেই মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাজমুল হোসেনকে করা হয়েছে মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।
ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতাকে পদোন্নতি দিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা নিয়ে সংগঠনে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ।
যদিও নাজমুলের ছাত্রদল সম্পৃক্ততা অস্বীকার করছেন তাকে পদ দেয়া ও সুপারিশ করা ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতারা। নাজমুল নিজেও দাবি করেছেন, তার পরিবার সব সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছে।
ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এও বলেছেন, নাজমুলের ছাত্রদল সম্পৃক্ততার অভিযোগ তারাও শুনেছেন। এটা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ২০১৮ সালে নাজমুলকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে যে প্যাডে ছাত্রদলের সেই কমিটির ঘোষণা করা হয়, তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে। আর একে নাজমুল অবশ্য কারসাজি বলছেন।
গত ১২ জুন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান ও ফাহিম আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে রবিন মোল্লা ও ইনজামামুল আলম অনিককে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে মো. নাজমুল হোসেনকে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
তবে মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের নব-নির্বাচিত সভাপতি রবিন মোল্লা বলেন, নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসছে। সেই হিসেবেই পদ পেয়েছেন। তিনি ছাত্রদল করতেন বলে অনেকেই আমাদের জানিয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে এর কোনো সত্যতা পাইনি।

মধুখালী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওমর ফারুক বলেন, তিন মাস আগে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগের সব কমিটি বাতিল হয়ে গেছে। তবে গত ২০১৮ সালের উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটিতে নাজমুল হোসেন যুগ্ম আহ্বায়ক ছিল বলে শুনেছি।
মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বকু বলেন, নাজমুল হোসেন ছাত্রদলের রাজনীতি করতো কিনা তা জানা নেই। তবে সে দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিংয়ে তাকে দেখেছি।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান বলেন, স্থানীয় রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই নাজমুল হোসেনকে ছাত্রলীগের পদ দেওয়া হয়েছে। নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত জানিয়ে সুপারিশ করায় তাকে পদ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগের সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর সাত্তার শেখ বলেন, নাজমুল হোসেনের বাড়ি ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে। ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রত্যয়নপত্র পেয়েই তাকে ছাত্রলীগের পদ দিতে সুপারিশ করেছি আমি।
এ বিষয়ে মো. নাজমুল হোসেনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কখনো ছাত্রদলের রাজনীতি করিনি। আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পারিবারিক কারণেই ছোটবেলা থেকেই আমিও ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসছি।
তিনি আরও বলেন, এলাকার একটি মহল আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এবং আমার পরিবারের সম্পর্কে আপনারা এলাকায় এসে খোঁজ নিয়ে দেখেন
