মিজানুর রহমান, শেরপুর প্রতিনিধি: বাবা আমার এল্লা জমিনও আছিল না। এহন আমি জমিনের মালিক হইলাম। নতুন ঘর পাইলাম আমি ওহন মেল্লা খুশি। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নফল নামাজ পইরা দোয়া করমু, যেন আমাগরে প্রধানমন্ত্রী মেল্লাদিন বাইচা থাহে। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর ও জমি পেয়ে আবেগ আপ্লূত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন সালেহা বগম।
মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভূমি ও গৃহহীনদের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৬৪ জেলার ৪৫৯ উপজেলার ৫২ হাজার ৯শ ৪৫ পরিবারকে ২ শতাংশ জমি ও একটি করে সেমি পাকা ঘর তুলে দেয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলার ১৬৭ ভূমি ও গৃহহীন পরিবার পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপহারের জমি ও ঘর।
রবিবার ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ৪টি জেলায় সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে ঘর বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের হলদিগ্রামে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রধানমন্ত্রীর হাতে ঘরে বুঝে পাওয়ায় ঘর পাওয়া এসব পরিবার খুশি।
এ জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। এসময় এ প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের হুইপ বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: আতিউর রহমান আতিক, জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন কুমার পাল, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এআরএস নাঈম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ প্রমুখ।
জেলার সদর উপজেলাসহ পাঁচ উপজেলার প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক, হাতি আক্রমনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার, রিকশাচালক, দিনমজুর, বিধবা, কাজের মহিলাসহ ১৬৭টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের জন্য প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। এতে মোট ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। পাকা ঘর বুঝে পাওয়ায় আনন্দে ভাসছে এসব পরিবার।
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর ও জমি পেয়ে ষাটোর্ধ্ব আফাজ উদ্দিন জানান, আমার কোন জাগা বা ঘর আছিল না। আমি বুড়া বয়সে খুব কষ্টে আছিলাম। এহন জমি ঘর পাইছি। আমি খুব খুশি অইছি।
